যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি—এবার একসঙ্গে বসে কথা বলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প একাধিক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেছেন যে তিনি “মামদানির সঙ্গে অবশ্যই কাজ করতে চান” এবং নিউইয়র্কের নাগরিকদের স্বার্থে “কোনো একটি ভালো সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।”

18 Nov 2025 | Pic: Collected
এপি নিউজ জানায়, ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন যে মামদানি তাকে দেখা করতে ওয়াশিংটনে আসতে আগ্রহী এবং তিনি এ বৈঠকের জন্য প্রস্তুত। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক পোস্ট নিশ্চিত করেছে যে মামদানি ও তার দল ইতিমধ্যে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজনের জন্য, যেখানে নিউইয়র্কের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ভাড়াবাড়ির সমস্যা, গৃহহীনতা এবং শহরের নিরাপত্তা নিয়ে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা চাইতে চায়। যদিও নির্বাচন প্রচারণার সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে মামদানিকে ‘চরম বামপন্থী’ বা ‘কমিউনিস্ট’ শব্দে আক্রমণ করেছিলেন এবং তাকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন, তবে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেছে।
ট্রাম্প এখন বলছেন, “নিউইয়র্ক সিটি যেমনই হোক, সেটিকে ভালোভাবে চালাতে আমরা দু’জনকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে নিউইয়র্ক শহরকে বাঁচাতে রাজ্য সরকার, শহর সরকার ও ফেডারেল সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এদিকে, মামদানি বলেন, নিউইয়র্কের মানুষ এখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—বাড়িভাড়া, খাদ্যের দাম, গণপরিবহনের ভাড়া ক্রমাগত বাড়ছে। এই অবস্থায় ফেডারেল সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করলে শহরের মানুষের সমস্যার সমাধান সম্ভব না। রাজনীতিতে বিরোধ থাকলেও জনগণের স্বার্থে তিনি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমি যেকোনো মানুষের সঙ্গেই কথা বলব যদি তা নিউইয়র্কবাসীর উপকারে আসে।” এই মন্তব্য নিউইয়র্ক জুড়ে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ শহরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ মোকাবিলা করছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বৈঠকের রাজনৈতিক মূল্যও অনেক বেশি।
একদিকে ট্রাম্প নিউইয়র্কে নিজের জনপ্রিয়তা ফিরে পেতে চান, অন্যদিকে মামদানি শহরকে স্থিতিশীল করতে ফেডারেল সাহায্য প্রয়োজন। দুই পক্ষই তাই কৌশলগতভাবে আলোচনায় আগ্রহী। সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এখনো বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি, তবে প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানায় যে বৈঠকের সম্ভাবনা খুবই উঁচু। ট্রাম্প বলেছেন, “মামদানির সঙ্গে আমি কাজ করব। নিউইয়র্কের মানুষের জন্য কয়েকটি ভালো সিদ্ধান্ত আমরা একসঙ্গে নিতে পারব বলে আমি আশা করি।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুইজন সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ ধারণ করলেও জনগণের স্বার্থে যদি এই বৈঠক সফল হয়, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ও স্থানীয় সরকারের সম্পর্ক উন্নয়নে বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নিউইয়র্ক পোস্ট আরও জানিয়েছে যে মামদানির দল হোয়াইট হাউসকে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে তারা বিশেষভাবে শহরের ভাড়া সহায়তা, শিক্ষার বাজেট ঘাটতি এবং গণপরিবহন সংকট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চায়।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকটি ইতিবাচক হবে এবং প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্কের সমস্যাকে “জাতীয় সমস্যা” হিসেবে দেখছেন। এদিকে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীও এই বৈঠককে ঘিরে উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে লিখেছেন, “রাজনীতি বাদ দিয়ে যদি দুই নেতা শহরের উন্নয়নে কিছু করতে পারেন, সেটাই সবচেয়ে বড় লাভ হবে।” মোট কথা, বিরোধপূর্ণ নির্বাচনী লড়াই পেছনে ফেলে এখন উভয়পক্ষ আলোচনার পথে হাঁটতে প্রস্তুত, আর এই আলোচনার সফলতা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ বৈঠকে কতটা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তার ওপর।




