মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সার্বিক কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে শুক্রবার (১৮ নভেম্বর, ২০২৫) ঘোষণা দিয়েছেন যে সৌদি আরবকে ন্যাটো-বহির্ভূত একটি “প্রধান মিত্র” (Major non-NATO ally) হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। এই ঘোষণা এসেছে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক জাঁকজমকপূর্ণ “ব্ল্যাক-টাই” ডিনারে, যেখানে সফরের আলোচনায় কেবল অর্থনৈতিক বিষয়ই নয়, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বও পূর্বেভাগত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমরা আমাদের সামরিক সহযোগিতাকে আরও উচ্চতায় তুলে নিতে চাই।”

19 Nov 2025 | Pic: Collected
এই স্বীকৃতি সৌদি-আমেরিকার মধ্যে নতুন ধরনের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক গড়ার ইঙ্গিত দেয়। হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে যে নতুন কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে দুই দেশ F-35 যুদ্ধবিমান সরবরাহ এবং নিউক্লিয়ার-সহযুক্ত প্রকল্পে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে সৌদি আরব প্রায় ৩০০টি মার্কিন ট্যাঙ্ক কেনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
সৌদি গেজেট (Saudi Gazette) এর প্রতিবেদন অনুসারে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব জামান কঠিন প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গড়তে চায়; তবে এটি সরাসরি প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো নয় — অর্থাৎ, স্বয়ং যুদ্ধে সহায়তার বাধ্যবাধকতা নেই, মূলত প্রতীকী স্বীকৃতি এবং সামরিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা দান করে।
নতুন “প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র” মর্যাদায় সৌদি আরব যুক্ত হওয়ায় দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরবরাহ, কৌশলগত গবেষণা ও উন্নয়নে আরও অধিকার পাবে। তবে, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে: বিশেষ করে ২০১৮ সালের সাংবাদিক জামাল খাশোগ্জি হত্যা এবং অন্যান্য ন্যায্যতা বিষয় নিয়ে সমালোচনার মধ্যে এই ঘটনায় পুরনো বিতর্ক আবার সক্রিয় হতে পারে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এমন সময় বলছেন যে সৌদি আরব “মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের মধ্যে অন্যতম” — এবং সামরিক সহযোগিতায় সৌদির সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র একটি প্রতীকী নীতি নয়, বরং এটি সৌদি আরবকে দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে অন্যরা উদ্বিগ্ন যে এই ধরনের ঘনিষ্ঠতা সৌদির মানবাধিকার সমস্যাগুলোকে দমন বা আন্তর্জাতিক সমালোচনায় একটি নতুন বাধা তৈরি করতে পারে।
সার্বিকভাবে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন চিহ্নিত করতে পারে, এবং এটি ভবিষ্যতে দুই দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন ধাপে নিয়ে যাবে।




