যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করিয়েছেন, যেটির মাধ্যমে জেফ্রি এপস্টিনের বিরুদ্ধে তদন্ত সংক্রান্ত নথি (Epstein Files) প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হলো। ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ট্রাম্প Epstein Files Transparency Act-এ সই করেছেন — যা বিচার বিভাগকে (DOJ) নির্দেশ দেয় যে তারা ৩০ দিনের মধ্যে “অশ্রেণীবদ্ধ (unclassified)” সব নথি এমনভাবে প্রকাশ করবে যা সহজে অনুসন্ধানযোগ্য এবং ডাউনলোডযোগ্য (searchable & downloadable) ফরম্যাটে থাকবে।

20 Nov 2025 | Pic: Collected
এই আইনেই নির্ধারিত আছে যে, তদন্ত রিপোর্ট, যোগাযোগ নথি, ইমেইল, গ্যুগল ম্যাপ বা যাবতীয় যাত্রী তালিকা (flight logs), ব্যক্তির নাম যারা এপস্টিনের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, গোপন অর্থনীতির তথ্য — ইত্যাদি নথি প্রকাশ করা হবে। তবে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে: বিচার বিভাগ শিকারদের ব্যক্তিগত তথ্য (victim identities), শিশুবয়সী যৌন নির্যাতনের ছবি ও কন্টেন্ট, এবং “জাতিগত প্রতিরক্ষা বা বিদেশ নীতি সংক্রান্ত” গোপন নথি রূপায়ন বা প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে পারবে।
ট্রাম্প প্রথমে এই আইন অনুমোদনে অনিচ্ছুক ছিলেন; তিনি আগে এমন দাবি করেছিলেন যে এটি একটি “ডেমোক্র্যাট দুর্ঘটনা (hoax)”। কিন্তু কংগ্রেসে আইনটি বিপুল সমর্থন পায়: প্রতিনিধি পরিষদে ৪২৭-১ এবং সিনেটে সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক চাপে, ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে “Amethi … কিছু লুকাতে হবে না”- এমন যুক্তি দিয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিচ্ছেন।
নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর, মুসলিম যুক্তি রহিত নয়, কারণ এপস্টিন ফাইলের পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ পৃষ্ঠার কাছাকাছি বলে আদালতের অনুমান। বিচার বিভাগকে এই নথিগুলোর প্রকাশে “সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা” বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত বা মামলার স্বার্থে কিছু অংশে তারিখ নির্ধারণ বা “ক্যাকটা আংশিক লুকানো” হলেও তা রাজনৈতিক কারণে করা যাবে না।
এদিকে, বিচার বিভাগকে (Attorney General) প্যাম বন্ডি দায়িত্বে রাখা হয়েছে এই প্রকাশ প্রক্রিয়া পরিচালনার। তিনি সাংবাদিকদের জানান, “আমরা আইন অনুসরণ করব, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ব্যাহত না করেই স্বচ্ছতা প্রদানে কাজ করব।”
নিম্নস্তরের বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি গ্যালান্ট রাজনৈতিক জয় — কারণ এপস্টিন কেস বহু বছর ধরে বিতর্ক ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। জনসাধারণ, বিশেষ করে এপস্টিনের শিকাররা, সর্বদা এই নথিগুলোর পুরো প্রকাশের দাবি করছিলেন। অন্যদিকে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন যে, যদিও আইন স্বীকৃতি দেয় “রিপুটেশনাল ক্ষতি বা রাজনৈতিক সঙ্কীর্ণতা”কে তথ্য লুকানোর যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না, বিচার বিভাগ বাস্তবভাবে কোন তথ্য প্রকাশ করবে তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা এখনও রয়েছে।
সার্বিকভাবে, ট্রাম্পের সই করা এই আইন একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে — এটি শুধু অতীতের একটি বিতর্কিত কেসের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার গোপন ইতিহাস ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা পুনর্মূল্যায়নের প্রতীক। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এপস্টিন ফাইলের প্রকাশ এবং তার পরবর্তী ফলাফল আন্তর্জাতিক মনোযোগকে এক নতুন পর্যায়ে পুরে যাবে।




