রাশিয়া ইউক্রেনে এক ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে, এতে কমপক্ষে ২৬ জন নিহত এবং ৯৩ জন আহত হয়েছেন — হিট হয়েছে আবাসিক ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এই বিধ্বংসী আক্রমণ বুধবার (১৯ নভেম্বর, ২০২৫) ভোরে ইউক্রেনের টার্নোপিল (Ternopil) শহরের আবাসিক এলাকায় সংঘটিত হয়। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে, যা হামলার মানবিক স্পেকট্রামকে আরও অস্থির করে তোলে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রাশিয়ার বাহিনী ৪৭০টিরও বেশি ড্রোন ও ৪৭টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে এই আক্রমণে — যা এক নজিরবিহীন আঘাত। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ধ্বংস” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং শীঘ্রই প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

20 Nov 2025 | Pic: Collected
এ হামলায় ভূপৃষ্ঠে শুধু আবাসিক ভবনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি; তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং টার্নোপিল অঞ্চলের অনেক জায়গায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। বিস্তৃত ধ্বংসের কারণে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা বেসামরিক মানুষদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা কৌশলগত উদ্দেশ্য বহন করে — কারণ টার্নোপিল পশ্চিম ইউক্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর এবং তার আক্রমণ প্রায়শই ইউক্রেনের রণকৌশলগত সাপ্লাইলাইনের ওপর প্রভাব ফেলে। আক্রমণটি রাশিয়ার সামরিক শক্তি এবং স্থায়ী প্রভাব দেখাতে চায় এমন একটি বার্তা বহন করে।
ইউক্রেনীয় প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, “এ ধরনের আক্রমণ অবশ্যই আন্তর্জাতিক মনোযোগ দাবি করে, এবং অপরাধীদের বিচারে তারা বঞ্চিত হতে পারে না।” অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে এই হামলা রাশিয়ার শীতকালীন কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হতে পারে, যেখানে তারা বেসামরিক ভারসাম্য নষ্ট করে প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
যদিও উত্তরোত্তর শান্তি চেষ্টাও চলছে, এই ধরনের হামলা পুনরায় প্রমাণ করে যে যুদ্ধ এখনও খুবই জীবন্ত ও বিপজ্জনক। ইউক্রেনও তার প্রতিরক্ষা লাইন শক্তিশালী করছিল এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর দিকে দৃষ্টিপাত করেছিল — কিন্তু এই আক্রমণ সেই প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও সংকটময় করে তুলেছে।
সার্বিকভাবে, এই হামলা কেবল একটি সামরিক ঘটনা নয় — এটি একটি মানবিক বিপর্যয়, দূরদৃষ্টিকোণ থেকে রাজনৈতিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার এক চ্যালেঞ্জার কিন্তু মর্মস্পর্শী অধ্যায়।




