ঢাকার সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে অনুষ্ঠিত এবারের সশস্ত্র বাহিনীর দিবস অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছিল, কারণ সেখানে দেখা মিলল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের মধ্যে আন্তরিক কুশল বিনিময়ের — যেটি কেবল রাজনৈতিক সম্মানই নয়, একটি সাংবিধানিক ও প্রতীকী দৃষ্টান্তও।

21 Nov 2025 | Pic: Collected
শুক্রবার বিকাল ৪টায় গুলশানের তার বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে সেনানিবাসে পৌঁছান খালেদা জিয়া। মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও, ইউনুস-সহ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ সদস্যদের স্বাগত জানানোর মাধ্যমে উপস্থিতি প্রকাশ করেন। তাঁর পোশাক ছিল নম্র ল্যাভেন্ডার রঙের শিফন শাড়ি, এবং হুইলচেয়ারে বসেও দর্শনীয়ভাবে হাত তুলেছেন অভ্যর্থনার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে।
ইউনুসও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং খালেদার আসনে গিয়েও প্রার্থিত ও ভদ্র কথাবার্তা বিনিময় করেছেন। তাঁর বক্তব্যে, ইউনুস সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর খালেদা আসার পর, তারা পাশের আসনে বসে হাসিমুখে আলাপ করেন এবং একে অপরের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
ইউনুস তাঁর বক্তব্যে বলেন, “খালেদা জিয়া অনেক বছর পর এই মহাসম্মিলনীতে এসেছেন, এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও আপনি এখানে এসেছেন — তা আমাদের জন্য বিশেষ সম্মানের। আমরা আপনার দ্রুত সেবা ও সুস্থতা কামনা করি।”
খালেদা নিজেও মিলন-ক্ষণের সময় সংক্ষিপ্ত ভাষায় ইউনুস ও তাঁর স্ত্রী সম্পর্কে কুশল বিনিময় করেন এবং তার আবেগপ্রকাশ করেছেন যে সার্বিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও তিনি “রাষ্ট্র ও দলের জন্য দায়িত্বে” থাকতে চান।
মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে, এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু মনোগ্রাহী মিলন সাধারণ রাজনৈতিক সাক্ষাত্য থেকে অনেক বেশি — এটি একটি রাজনৈতিক ও মানবিক বার্তা যা গতিবিধির পরিবর্তনের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। পুরাতন দলীয় শত্রুতা ও পার্থক্য সত্ত্বেও, তারা এমন এক মুহূর্ত ভাগ করেছেন যা রাজনৈতিক শৃঙ্খলা, সামাজিক সমন্বয় এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন দৃষ্টিকোণ তৈরি করতে পারে।
সার্বিকভাবে, সেনাকুঞ্জে খালেদা ও ইউনুসের কুশল বিনিময় শুধুমাত্র রাজনৈতিক শব্দ নয় — এটি এক প্রতীকী প্রয়াস, যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও সম্মান, প্রার্থনা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখা সম্ভব।




