রাজধানীর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দের অভিযোগ-ভিত্তিতে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ২৭ নভেম্বর রোববার। রোববার (২৩ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষে এই তারিখ ধার্য করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতার অবস্থান ব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে সরকারি জমি, যা সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকারহীন এলাকার অংশ, সেখানে ১০ কাঠা করে বরাদ্দ নিয়ে নেয়া হয়েছে।

23 Nov 2025 | Pic: Collected
এই প্লট বরাদ্দের মাধ্যমে সাধারণ নিয়ম মেনে চলা হয়নি, নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে এবং মিথ্যা হলফনামা দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে বরাদ্দ নেয়া হয়েছে — এই অভিযোগ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।মামলাটি গত বছরের ডিসেম্বর থেকে দুদক তদন্ত শুরু করে এবং চলতি বছরের ১০ মার্চে পৃথক ছয়টি মামলায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর ৩১ জুলাই থেকে অভিযোগ গঠন হয় ঢাকার চতুর্থ ও পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে।
আসামিদের মধ্যে শুধু শেখ হাসিনা নয়, তার পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-উর্ধ্বতন ব্যক্তিরা রয়েছে। মামলায় উল্লেখ রয়েছে: শেখ হাসিনার সাথে রয়েছে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক; এছাড়া সরকারি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান, সদস্যবৃন্দ-সহ লিস্ট করা হয়েছে আরো অনেককে।
প্রসিকিউটর খান মো. মাইনুল হাসান (লিপন) সাক্ষ্য উপস্থাপনায় বলেন, “আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করেছি।” কারাগারে রয়েছেন অভিযোগের একমাত্র গ্রেপ্তার হওয়া আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম; তিনি আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন কেন তিনি খালাস হওয়া উচিৎ। মামলার পটভূমিতে রয়েছে এমন তথ্য: ২০২২ সালের ৩ আগস্ট শেখ হাসিনার নামে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয় (প্লট নম্বর ৯), ২৪ অক্টোবর জয়-এর নামে দেওয়া হয় এবং ২ নভেম্বর পুতুল-এর নামে বরাদ্দ হয়। এই মুহূর্তে আদালতে রায়ের জন্য প্রস্তুতি চলছে-– রায় ঘোষণার দিন ধার্য হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল এ মামলাটিকে গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। সাধারণ মানুষ এই মামলায় বিচারপদ্ধতির স্বচ্ছতা, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত আশা করছে।




