যুক্তরাষ্ট্র কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্সকে জানিয়েছে যে, তারা খুব শীঘ্রই ভেনেজুয়েলাতে নতুন ধাপের অভিযান শুরু করার পরিকল্পনায় রয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে। এই নতুন পরিকল্পনায় এর প্রথম ধাপে গোপন অপারেশন (covert operations) চালানো হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদিও তারা পুরো পরিকল্পনার সময় বা পরিসর প্রকাশ করেনি। তাদের কথায়, ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোকে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত একটি “নারকো-সন্ত্রাসী গ্রুপ” হিসেবে দেখছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র সেই গ্রুপকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংস্থা (Foreign Terrorist Organization, FTO) হিসেবে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা করছে।

23 Nov 2025 | Pic: Collected
এই গোপন অভিযানের খবর এমন এক প্রেক্ষাপটে এসেছে যখন ক্যারিবিয়ানে মার্কিন সামরিক শক্তি বাড়ানো হয়েছে — একটি বিমানবাহী রণতরী (USS Gerald R. Ford) সহ বহুবিধ যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং F-35 যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ ইতিমধ্যেই এক বৃহত্তর মিশন ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা “ন Narco-terrorism” (মাদক সন্ত্রাস) কমাতে দৃষ্টিকোণ থেকে করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, এই অভিযানের নতুন ধাপ শুধুমাত্র সামরিক নয়, গোয়েন্দা ও সিআইএ-চালিত গোপন কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। আবারও, যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর সম্পদ এবং অবকাঠামুতে আঘাত করার সম্ভাব্য আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে তার প্রশাসনকে আরও অস্থিতিশীল করা যায়।
তবে মার্কিন পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট করা হয়নি — কোনো সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, বা মাদুরোকে সরানোর জন্য সরাসরি হামলা করা হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার দৃষ্টিকোণ থেকেও প্রতিক্রিয়া তীব্র হচ্ছে: মাদুরো ইতিমধ্যেই প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এমন কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে গেরিলা-স্টাইল বা গ্রাম্য প্রতিরোধ গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয়।
এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মঞ্চেও উদ্বেগ তোলে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র গোপন অভিযান চালায়, তাহলে তা লাতিন আমেরিকার মধ্যে নতুন উত্তেজনার ধাপ শুরু করতে পারে। আবার কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মাদুরোর ওপর এক নতুন চাপ এবং রাজনৈতিক বিপর্যয়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা রয়েছে, এমন অভিযান আইনগত এবং নৈতিক প্রশ্নও তুলতে পারে, বিশেষ করে “সন্ত্রাসী চিহ্নকরণ” এবং গোপন অপারেশন নিয়ে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পরিকল্পনা ভেনেজুয়েলায় শুধু সামরিক উত্তেজনাই বাড়াচ্ছে না, বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইতর প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী দিনগুলোতে এই ঘোষণার বাস্তব রূপ এবং তার পরিণতি আন্তর্জাতিক সমাজ ও ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যতের বড় ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।




