ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস অফিসিয়ালি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে (ট্রাম্পের জামাতা) লিখিতভাবে জানিয়েছে যে, তারা গাজার বর্তমান যুদ্ধবিরতি (ceasefire) চুক্তি বাতিল করতে যাচ্ছে। Militarnyi এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, হামাস তাদের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা “চুক্তির বর্তমান ধারায় সীমাবদ্ধ” থাকতে রাজি নয় এবং যদি তাদের মুখ্য দাবি — আক্রমণ বন্ধ করা, দখলকারী বাহিনী গাজার বাইরে থেকে সরে যাওয়া এবং ফিলিস্তিনি অধিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা — পূরণ না করা হয়, তারা লড়াই আবার শুরু করতে প্রস্তুত।

24 Nov 2025 | Pic: Collected
হামাসের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের মতে চুক্তি হওয়া উচিত ছিল ‘পারস্পরিক’, অর্থাৎ শুধু হামাস নয়, ইসরাইলকেও তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের উপর চাপ দিচ্ছে যেন তারা তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে। হামাস স্পষ্টভাবে বলেছে যে, তারা নতুন ধাপের সংঘাতে যেতে প্রস্তুত যদি তাদের সামনে রাখা শর্তগুলো পূরণ করা না হয়। Militarnyi প্রতিবেদন আরও বলেছে যে এই ঘোষণার পেছনে কাতার, মিসর এবং মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কূটনৈতিক আলোচনা ছিল, বিশেষ করে গাজার পুনর্গঠন এবং বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে।
তারা মনে করছে, চুক্তির বর্তমান কাঠামো তাদের কাছে “তেমনই সীমিত” যা গাজার জনগণের প্রকৃত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না। হামাস দাবি করছে, তারা দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতা চান — শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয় — এবং স্বাগত জানাচ্ছে যে তারা “নতুন চূড়ান্ত অবস্থা” গড়ে তুলবে যদি তাদের মূল দাবিগুলো বিগত হয়েছে।
এই ঘোষণা এমন সময় আসে যখন গাজায় মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে এবং যুদ্ধবিরতিকে টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। দেখা যায়, হিউম্যানিটেরিয়ান সহায়তা প্রবেশ করানো, বন্দি প্রতিস্থাপন এবং গাজার পুনর্গঠন বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে।
তবে পুরাতন চুক্তিগুলোর ওপর ভিত্তি করে এই নতুন ধরণের ঘোষণা নতুন প্রশ্নও তোলে — বিশেষ করে, জটিল মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া কি এবার সফল হবে কি না, এবং গাজার অধিবাসীদের জন্য স্থায়ী শান্তি আসবে কি? বিশ্লেষকরা বলছেন, হামাসের এই সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক পুনরায় বিন্যাস ও মধ্যস্থতাকারীদের ওপর চাপ বাড়াবে। একই সঙ্গে, এটি রাজনৈতিক ও মানবিকভাবে বড় ঝুঁকি বহন করে — যুদ্ধে নতুন পর্যায় ঢুকতে পারে, যা গাজার জনগণের জন্য আরও দুর্যোগের কারণ হতে পারে।
সংক্ষেপে, হামাসের এই চুক্তি বাতিলের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে গাজার ভবিষ্যৎ একটি নতুন মোড় নিয়েছে — যুদ্ধে ফিরে যাওয়া কি অনিবার্য হবে, নাকি এটি মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কূটনৈতিক সক্ষমতার আসল পরীক্ষা হবে, সেটিই এখন এক গ্লোবাল নজরদারির বিষয়।




