অস্ট্রেলিয়ার সিনেটে ওয়ান নেশন পার্টির সিনেটর পলিন হ্যানসন বোরকা পরে প্রবেশ করায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং অবশেষে অধিবেশন স্থগিত করতে হয়, যা দেশটিতে ধর্ম, নিরাপত্তা ও বর্ণনির্ভর রাজনীতির মধ্যকার দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তুলেছে। হ্যানসন সোমবার (২৪ নভেম্বর, ২০২৫) সিনেটে প্রবেশ করেন বোরকা পরে, তার আগে তার প্রস্তাবিত বোরকা ও মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার বিল পার্লামেন্টে উপস্থাপন করতে অনুমোদন পাননি।

25 Nov 2025 | Pic: Collected
তাঁর বোরকা পরে চেম্বারে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে অনেক সিনেটর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। বিশেষ করে গ্রিনস পার্টির মুসলিম সিনেটর মেহরিন ফারুকি বলেন এটি “স্পষ্ট বর্ণবাদের অভিব্যক্তি” এবং স্বতন্ত্র মুসলিম সিনেটর ফাতিমা পেইম্যান এই কাণ্ডকে “লজ্জাজনক” বলে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে, লেবার পার্টির সিনেট নেতা পেনি ওং এবং বিরোধী দলের অ্যান রাসটন—উভয়েই হ্যানসনের এই কাজ নিন্দা জানিয়েছেন। ওং বলেন, এই ধরনের আচরণ পার্লামেন্টের মর্যাদার সঙ্গে খাপ খায় না। হ্যানসন বোরকা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে সিনেট তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে।
এই ঘটনা নতুন কিছু নয়: হ্যানসন ২০১৭ সালেও একই ধরনের বোরকা স্টান্ট করেছিলেন, তখনও তিনি বোরকা-নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে এমন কাজ করেছিলেন। তাঁর মতে, বোরকা একটি “গোপন জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি” এবং নারী দमन-চিহ্ন হিসেবে কাজ করে, যা তিনি পার্লামেন্টে তুলে ধরতে চান।
এই বোরকা পরা আন্দোলনকে অনেকেই ধর্মীয় বৈষম্য এবং ইসলামফোবিয়া হিসেবে দেখছেন। গ্রিনসের ফারুকি বলেন, “সেনেটার যিনি এই পোশাককে রাজনৈতিক প্রতিবাদের হাতিয়ার ইতিমধ্যেই দায়িত্বহীন ও ঘৃণাসূচক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।”পেইম্যান আরও বলেছিলেন, “তিনি এক সম্পূর্ণ ধর্মের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করছেন, যা মুসলিম অস্ট্রেলিয়ানদের বেসুরো করছে।”
আরও প্রভাবশালী এক কণ্ঠ সিনেট নেতা পেনি ওং বলেন, “হ্যানসনের আচরণ পার্লামেন্টকে দুর্বল করে; এটি শুধু স্টান্ট নয়, এটি পুরো জাতীয় সংহতির বিরুদ্ধে আঘাত।”
এই সিলসিলায়, সিনেট হ্যানসনকে প্রথমে এক দিনের জন্য স্থগিত করে এবং তার পর “censure motion” পাশ করে তাকে পরবর্তী৭টি সিনেট অধিবেশন থেকে বরখাস্ত করল। অনেকেই বলছেন এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত, যা পুরো রাজনৈতিক গঠনকে ধর্ম ও পোশাক‑স্বাধীনতার সম্পর্কে প্রশ্ন করতে বাধ্য করছে।
এই ঘটনা শুধু পার্লামেন্টিক নাটক নয়; এটি অস্ট্রেলিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা যুক্ত যুক্তি এবং রাজনৈতিক অপব্যবহারের জটিল মিশ্রণকে সামনে আনছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হ্যানসনের কাজ রাজনৈতিক কূটনীতির এক নতুন চরণ—যেখানে প্রচার এবং ধর্মীয় প্রতীক একসাথে ব্যবহৃত হচ্ছে জনসচেতনতা ও শক্তি অর্জনের জন্য। তবে প্রশ্ন রয়ে যায়: এই ধরনের স্টান্ট কি সামাজিক বিভাজন বাড়াবে, না কি অস্ট্রেলিয়া তার পার্লামেন্টিক সংস্কৃতিতে আরও সহনশীলতার দিকে এগোচ্ছে?




