সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা একটি ফটোশ্যুটে অংশ নিয়েছেন, যা জনপ্রিয় ফটোগ্রাফার Annie Leibovitz এর তোলানো। এই শুটের কিছু “বিহাইন্ড দ্য সিন” ছবি ও ভিডিও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি সাধারণ পোশাক — ধূসর টি-শার্ট, জিন্স আর বুট — পরে, স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় ক্যামেরার সামনে হাজির হয়েছেন। তবে তার দেখার পরিমাপ, বিশেষ করে কোমর আর হাত, অনেকেই বলছেন আগে-চেয়ে অনেক পাতলা।
এই নতুন চেহারাকে ঘিরে তৎক্ষণাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে — অনেকেই অনুমান করছেন মিশেল হয়তো ওজন কমানোর জনপ্রিয় ইনজেকশন বা ড্রাগ Ozempic ব্যবহার করছেন। যদিও কোনো অফিসিয়াল বা প্রামাণিক তথ্য পাওয়া যায়নি যে তাঁর কোনো ড্রাগ গ্রহণ করেছেন।

26 Nov 2025 | Pic: Collected
কিন্তু অনেকে তাজ্জব, প্রশংসাও করছেন — বলছেন, বয়স ৬১ হলেও, স্বাস্থ্য সচেতনতা আর স্টাইলের কারণে মিশেল যেন নতুন জীবনের পথে; কেউ বলছেন এটি শুধুই ফিটনেস, ডায়েট আর জীবনের সাবধান-চর্চা।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: মিশেল আগে নিজে স্বীকার করেছেন, মেনোপজনের পর ওজন-উপরিবর্তনসহ নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জে পড়েছেন আর তাই খাদ্য–ব্যায়াম ও স্বাস্থ্য সচেতন হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই বলছেন, তার নতুন চেহারা হয়তো তার স্বাস্থ্য-ভালোাভাসনেরই ফল।
এই ফটোশ্যুটের উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘ দিনের তার স্টাইল, আত্মপ্রকাশ ও নারীর বহুমাত্রিক পরিচয়কে তুলে ধরা — এবং সেই প্রোজেক্টের অংশ হিসেবে লাইবোভিটজের “Women” বইয়ের জন্য ছবিগুলো তোলা হয়েছে। মিশেল নিজেও শেয়ার করেছেন, ফটোশ্যুটের পেছনের কাজকে সম্মান জানিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন, তিনি আশা করেন ছবিগুলো এমন মেসেজ দেবে যা inspires করতে পারে।
তবে, এই নতুন চেহারা ও গুঞ্জন-ভেসা সামাজিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দিয়েছে, কেমনভাবে একজন জনমান্য ব্যক্তিত্বের ব্যক্তিগত চেহারা, স্টাইল কিংবা ধরণ কেবল ব্যক্তিগত বিষয় না থেকে হয়ে যায় গ্লোবাল মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিতর্কের কেন্দ্র। বিশেষ করে, “ওজন”, “ড্রাগ”, “বয়স” ও “সৌন্দর্যমান” নিয়েই যখন আলোচনা হয়, তখন অনেক সময় ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত যেমন-তেমন বিশ্লেষণ ও অনুমানের খোরাক হয়ে পড়ে।
মিশেল বা তার টিম এখনও এ বিষয়ে কোনো মেডিক্যাল বা অফিসিয়াল মন্তব্য করেনি যে আসলে তিনি কোনো ওজন কমানোর ড্রাগ নিয়েছেন। ফলে, এই গুঞ্জনগুলো এখনো নিরাপূর্ণ অনুমান হিসেবেই আছে, কোনো প্রমান নয়।
অপর দিকে, এই ফটোশ্যুট দেখিয়েছে, গড়-মানকে চ্যালেঞ্জ করে, বয়স, পরিচয়, ফ্যাশন ও আত্মবিশ্বাস — সবই একসঙ্গে ভেসে উঠতে পারে। মিশেল ওবামা হয়তো আর সেই ফার্স্ট লেডি নন, কিন্তু তাঁর প্রভাব, ভাবনা এবং শৈলী এখনো অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা।
নিশ্চিতভাবে বলা যায় — এই ফটোশ্যুট শুধুই ছবি নয়; এটি একটা বার্তা। বার্তা, যেভাবে নারীর বয়স, শরীর, পরিচয় নিয়ে সমাজ ভাবুক, পরিবর্তন সম্ভব; এবং ব্যক্তি নিজে সিদ্ধান্ত নেবে তার শরীর, স্বাস্থ্য ও আত্মপ্রকাশের বিষয়ে।




