অভিবাসন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন, আর সেই কঠোরতার প্রভাব এবার এসে পড়েছে সরাসরি হোয়াইট হাউজের ভেতরেও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের এক আত্মীয়—ব্রাজিলীয় নাগরিক ব্রুনা ক্যারোলিন ফেরেইরা—কে অবৈধ অবস্থান ও পূর্বে করা অপরাধের অভিযোগে ম্যাসাচুসেটসে গ্রেফতার করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)। এনবিসি নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে অভিবাসন বিভাগের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র।

26 Nov 2025 | Pic: Collected
জানা যায়, ফেরেইরা লেভিটের ভাগ্নের মা, যিনি ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং পরের বছর ১৯৯৯ সালের জুনে তাঁর পর্যটন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) একজন মুখপাত্র জানান, ফেরেইরার বিরুদ্ধে “criminal illegal alien”—অবৈধ বিদেশি অপরাধী—অভিযোগ রয়েছে এবং ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আসছেন। আইস তাঁকে গ্রেফতারের পর দক্ষিণ লুইসিয়ানার একটি রিমুভাল প্রসেসিং সেন্টারে পাঠিয়েছে এবং তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সূত্র বলছে, লেভিটের ভাগ্নে জন্মের পর থেকেই নিউ হ্যাম্পশায়ারে তাঁর বাবার সঙ্গে থাকে, আর ফেরেইরার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই অনেক বছর ধরে; ফেরেইরাও কখনো ছেলের সঙ্গে থাকেননি। তবে ঘটনাটি পরিবারের দাবি ও সরকারি তথ্যের মাঝে বড় ধরনের অমিল তৈরি করেছে। ফেরেইরার পরিবার “GoFundMe” প্ল্যাটফর্মে একটি ফান্ড সংগ্রহ উদ্যোগ শুরু করে জানিয়েছে, ফেরেইরাকে ছোটবেলায় যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছিল এবং তিনি DACA—Deferred Action for Childhood Arrivals—প্রোগ্রামের অধীনে আইনি মর্যাদা পেয়ে বহু বছর ধরে একটি স্থিতিশীল জীবন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। পরিবার বলছে, তিনি অপরাধী নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভুল ও অতিরঞ্জিত। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ICE অভিযানে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন DACA প্রাপকও রয়েছেন—যা অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। প্রেস সেক্রেটারি লেভিট এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এবং তিনি নিজে কোনো মন্তব্য না করলেও, তিনি অতীতে অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি নিয়মিত অভিবাসীদের ‘illegal criminal aliens’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটদের নরম নীতি ও “ওপেন বর্ডার” অবস্থানের কারণে গত কয়েক বছরে লক্ষাধিক অবৈধ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, আইস এখন যেভাবে অভিযান পরিচালনা করছে তা অতিমাত্রায় আগ্রাসী এবং বহু পরিবারের জন্য মারাত্মক মানবিক সংকট তৈরি করছে। ফেরেইরার গ্রেফতার তাই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন, পরিবার বিচ্ছেদ, DACA প্রোগ্রামের ভবিষ্যৎ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি—সব নিয়ে নতুন করে জাতীয় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর আইনজীবী ও পরিবার বলছে, ফেরেইরা কোনো অপরাধী নন; অন্যদিকে ICE বলছে, তিনি বহু বছর ধরে ভিসা ছাড়া দেশটিতে অবস্থান করে আইন ভেঙেছেন।
এখন দেখার বিষয়, আদালত কোন পথে যায় এবং ফেরেইরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন কি না। এদিকে GoFundMe ক্যাম্পেইনে ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার ডলার তোলা হয়েছে তাঁর আইনি লড়াই চালানোর জন্য, যা সাধারণ মানুষের সহমর্মিতা ও বিভক্ত মতামত দুটোই সামনে এনেছে—অনেকে মনে করেন, দীর্ঘদিন দেশে থাকা ও কাজ করা মানুষদের সুযোগ দেওয়া উচিত; আবার অনেকে আইনের কঠোর প্রয়োগের পক্ষে। সব মিলিয়ে, প্রেস সেক্রেটারির পরিবারের সঙ্গে যুক্ত এই গ্রেফতার অভিবাসন নীতি নিয়ে চাপা উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।




