ওয়াশিংটন ডিসিতে বুধবার (২৬ নভেম্বর ২০২৫) বিপর্যয়ময় ঘটনা ঘটে: হোয়াইট হাউস থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে, মেট্রো স্টেশন Farragut West station-এর কাছাকাছি, হঠাৎ গুলির শব্দ মধ্যরাত নয় — বিকেল ২টা ১৫ মিনিটে। সেখানে গ্যার্ড প্যাট্রোল করছিলেন দুই সদস্য, যখন গুলি চালানো হয়। দুই গার্ড সদস্য গুলিবিদ্ধ হন এবং “গুরুতর” অবস্থায় মারা সাজাপ্রার্থী হিসেবে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বিভাগের বরাতে বলা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত (targeted) হামলা — একরদ্দর গুলিচালনায় সেনাদের লক্ষ্য করা হয়।

27 Nov 2025 | Pic: Collected
পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ড‑এর দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়; গুলিবিনিময় হয়, অভিযুক্তও গুলিবিদ্ধ হয় এবং হাসপাতালে নেয়া হয়, বর্তমানে তার অবস্থা ‘চেকিং’ চলছে। অভিযুক্তকে পরিচয় দেওয়া হয়েছে Rahmanullah Lakanwal নামে, ২৯ বছর বয়সী একজন আফগান নাগরিক। তিনি ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন — সেই সময়কার প্রোগ্রাম Operation Allies Welcome এর আওতায় ‒ যা আফগানিস্তান থেকে আমেরিকায় প্রত্যাহার ও পুনর্বাসনের অংশ ছিল।
কিন্তু হামলায় অভিযুক্ত এই Lakanwal–এর বিরুদ্ধে পুলিশি সূত্র বলেছে, তিনি তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আইনত অবৈধ অবস্থায় বসবাস করছিলেন। যদিও আগে তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল,ক্ত্তো বর্তমানে তার আইনগত মর্যাদা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। যদিও ভিসার মেয়াদ ও তার অবস্থান নিয়েও এখনো পূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তদন্ত চলছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতি নতুনভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রথম প্রতিক্রিয়ায়, প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে যে, আফগান নাগরিকদের অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া (অসাইল, শরণার্থী প্রক্রিয়া) তৎক্ষণাৎ স্থগিত করা হবে। পাশাপাশি, নতুন কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা স্ক্রিনিং এবং শরণার্থী ভর্তি বিধিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে, এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট Donald J. Trump বলেন, “যদি তারা আমাদের দেশ ভালোবাসে না, তাহলে আমরাও চাই না”। তিনি আগামি সময়ে আফগান প্রত্যাবাসন ও শরণার্থী নীতির পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দিয়েছেন।অপর দিকে, কিছু সমালোচক এবং মানবাধিকার সংস্থা বলেন, “একজন ব্যক্তির অপরাধের কারণে পুরো সম্প্রদায় বা দেশভিত্তিক অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সামগ্রিক সিদ্ধান্ত — সেটা ইতিবাচক নাও হতে পারে।”
সন্ত্রাসবিরোধী ও অভিবাসন‑নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও ঘটনার পেছনে ধর্ম বা বিদেশি পরিচয় ভিত্তিক উদ্দেশ্য আছে কি না সেটা এখন বলা যাচ্ছে না, — তারা সতর্ক করেছেন যে এমন নীতি গ্রহণে চিন্তা-ভাবনা ছাড়া দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে অনেক নিরীহ মানুষ বিপদে পড়বে। FBI ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে, এবং হামলার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য, সহযোদ্ধা, ও নেটওয়ার্কের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
এই ঘটনায় ওয়াশিংটন DC–তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস, ন্যাশনাল গার্ড, Secret Service, ATF, পুলিশ — সবাই মোতায়েন; হাই-ভিজিবিলিটি প্যাট্রোল, মোড়ল পরিবহন এলাকা, মেট্রো স্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সব জায়গায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক— বিশেষ করে যারা শহরের কেন্দ্র বা পর্যটন এলাকায় কাজ করে, যাত্রা করে — তারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। জোরালো প্রশ্ন উঠেছে, “আমরা কি নিরাপদ?” এবং “নাগরিক নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতি কীভাবে সামঞ্জস্য রাখতে হবে?”
সর্বশেষ, এই ঘটনা শুধু একটি গুলিকাণ্ড নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, শরণার্থী পুনর্বাসন নীতি, বিচ্ছিন্নতা বনাম সম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ এবং সামাজিক বিশ্বাস — সবকিছুর ওপর তীব্র প্রভাব ফেলবে।




