হংকংয়ের উত্তরের তাই পো (Tai Po) জেলায় অবস্থিত ৮টি ৩২-মালার আবাসিক ভবন নিয়ে গঠিত Wang Fuk Court–এ (ওয়াং ফুক কোর্ট) ২৬ নভেম্বর ২০২৫ সালের বুধবার বিকেল ২টার দিকে যে অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়েছিল, সেটি পরিণত হলো শহরের প্রায় আট দশকের ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আগুনে। উদ্ধারকারী ও কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১২৮ জন মারা গেছেন এবং কমপক্ষে ২০০ জন এখনও নিখোঁজ। এমন ধ্বংসযজ্ঞ আড়ালেও ভবনগুলোতে যারা বাস করতেন — অনেক পরিবার এখন নিঃস্ব।

28 Nov 2025 | Pic: Collected
আগুন লাগার সময় কমপ্লেক্সে প্রায় ৪,৬০০–৪,৮০০ মানুষ থাকতেন, যা দেখাতে পারে, এক সঙ্গে কত বড় মাত্রায় বিপর্যয় সৃষ্টি হল। একবারে সাতটি ভবন আগুনে গ্রাস হওয়ায়, ক্ষয়ক্ষতির পরিধি ছিল ভয়াবহ।
উদ্ধার ও আগুন নেভাতে প্রায় ৪২ ঘণ্টার চেষ্টার পর শুক্র সকাল ১০:১৮ (স্থানীয় সময়)–এ আগুন “লগভাগ নিয়ন্ত্রণে” আনা হয় বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু ধোঁয়া আর গলে থাকা ধ্বংসস্তূপের কারণে, ভবনের সব ইউনিটে তল্লাশি এখনও চলছে এবং পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে পাওয়া মৃতদের মধ্যে মাত্র ৩৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত। বাকী মৃত এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হবে, কারণ কার্ডধারী ও বাসিন্দা তালিকা মিলিয়ে “কোনো আধূনিক প্রক্রিয়ার ঘাটতি ছিল কি না” — সেটি খতিয়ে দেখা হবে।
মৃতের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনই উদ্বেগ বাড়ছে — কারণ উদ্ধার কাজ শেষ হলেও ধোঁয়ার মধ্য থেকে এখনও দেহ ও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছে, “যখন পুলিশ পুরো ভবন ভেতরে প্রবেশ করবে, হয়তো আরও মরদেহ পাওয়া যেতে পারে।”
অগ্নিকাণ্ড যে শুধু এই এক কমপ্লেক্সের নয় — হংকংের আবাসন ব্যবস্থায় নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন তোলে, সেজন্য ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। কারণ, এই ভবনটি সংস্কারকাজের জন্য বাঁশের কাঠামো (scaffolding) এবং সবুজ জাল দিয়ে আবৃত ছিল এবং অনেক বাসিন্দা জানাচ্ছেন, আগুন লাগার আগে ফায়ার অ্যালার্ম বা নির্গমন ব্যবস্থা কাজ করেনি।
শহরের ন্যায়-নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা Chris Tang বলেন, তারা এখন প্রতি ইউনিটে প্রবেশ করে খুঁজবেন — নিশ্চিত করতে যে আর কারা ভিতরে আটকা আছে কি না, এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
ঘটনার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত নয় — পরিবার হারানো, নিখোঁজ, আতঙ্ক, আশ্রহীন মানুষ, অর্থহীন ক্ষতি — সব মিলিয়ে ইউনিটিভাবে নয়, পুরো সমাজিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেই একরাশ প্রশ্নে ফেলে দিয়েছে। কীভাবে এত বড় আবাসন কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গ্যাপ ছিল, কমিশন বা প্রশাসনিক তদারকি ছিল কি না — এইগুলো এখন খতিয়ে দেখা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে প্রকল্প–সংক্রান্ত ত্রুটি, বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং, অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থার অভাব, এবং ফায়ার অ্যালার্মের ব্যর্থতা — এসব সম্ভবনা প্রধান।
এবার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — আগামীতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? নগর কর্তৃপক্ষের প্রতি জনমত চাপ বেড়েছে। হংকংবাসী এখন নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ, মধ্যবিত্ত বস্তির বাস্তবতা আর ভবন সংস্কার নীতির পুনর্মূল্যায়ন চায়।
এ মুহূর্তে পুরো হংকং শোকস্তব্ধ। বহু পরিবার হারিয়েছে প্রিয়জন, বহু পরিবার জানে না loved one কোথায় — নিখোঁজ নাকি মৃত। উদ্ধারকর্মীরা হাসি-কান্নার মিশ্র পরিবেশে মাটি খোঁজার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ, দমকল, প্রশাসন — সকলে এখন দায়িত্বশীল, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় — “পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থার কী গ্যারান্টি?”
সংক্ষেপে — হংকংয়ের Tai Po-এর Wang Fuk Court–এ ২৬ নভেম্বর ২০২৫ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৮ জন নিহত, নিখোঁজ কমপক্ষে ২০০। সাতটি বহুতল আবাসিক ভবন পুড়ে গেছে। এখন উদ্ধার ও তদন্ত চলছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের গ্যাপ, সংস্কার কাজ, বাঁশ–স্ক্যাফোল্ডিং, অগ্নি সতর্কতা ব্যবস্থার ব্যর্থতা — এসব সম্ভাব্য কারণ। সমাজ, প্রশাসন, ভবন মালিক, এবং বাসিন্দাদের জন্য এটি এক ভয়ানক সতর্কবার্তা।




