যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তারা “তৃতীয় বিশ্বের” সমস্ত দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়া স্থায়ীভাবে বন্ধ করবে, এবং ইতোমধ্যে অনুমোদিত অভিবাসন আবেদন ও গ্রীন কার্ড প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম “Truth Social”–এ উল্লেখ করেছেন, যে “অ-নাগরিকদের” সব ধরনের ফেডারেল সুবিধা ও ভর্তুকি বন্ধ করা হবে এবং যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বোঝা, নিরাপত্তার ঝুঁকি, বা পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ — তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করে বিদেশিদের বহিষ্কার করা হবে। এই নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে যুক্ত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের “শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধার” করার প্রয়োজন, যাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অভিবাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়।

28 Nov 2025 | Pic: Collected
ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই “উদ্বেগজনক” দেশগুলোর জন্য গ্রীন কার্ড ও আশ্রয় আবেদনগুলোর ব্যাপারে পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে। বিশেষ করে, গত কয়েকদিনে ওয়াশিংটন ডিসিতে এক ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা — যাকে একটি আফগান নাগরিক দ্বারা সংঘটিত হিসেবে বলা হচ্ছে — সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প এই নীতি জোরালোভাবে ঘোষণা করেছেন।
এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সুযোগ-সন্ধানী, অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে, যারা বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন — বিশেষত তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে — তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা, সুবিধা ও বিভিন্ন অধিকার কি থাকবে — সেটিও প্রশ্ন হিসেবে থেকে গেছে।
- “তৃতীয় বিশ্বের দেশ” মানে কোন দেশগুলো — সেটা স্পষ্টভাবে ডিফাইন করেনি। ফলে, অনেক দেশই এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে অভিবাসন পরিকল্পনায় বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে।
- গত কয়েক বছরের অভিবাসন-নীতির প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রে বহু অভিবাসী এসে বসবাস করেছিল। এই নতুন সিদ্ধান্ত তাদের জন্য পুনর্বিবেচনার দরজা খুলেছে — তাদের আইনগত অবস্থান, গ্রীন কার্ড, আশ্রয় প্রক্রিয়া, এবং নাগরিকত্বের নিরাপত্তা সব প্রশ্নাতীত হয়ে পড়েছে।
- নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রনের যুক্তি দিয়ে হলেও, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার দলগুলো সমালোচনা করছে — কারণ, এমন সিদ্ধান্ত অনেকে “গোষ্ঠীগত দৃষ্টিভঙ্গা” বা “নিরাপত্তার অস্বাস্থ্যকর নিশ্চিতি” হিসেবে দেখতে পারে।
- ভবিষ্যতে, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও — যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন-নির্ভর শিল্প, শ্রম এবং বৈচিত্র্য প্রভাবিত হতে পারে, কারণ বহু দেশ থেকে অভিবাসন বন্ধ মানে বিদেশী শ্রমিক, দক্ষতা, বৈচিত্র্য সীমিত হওয়া।
মোট কথা, যুক্তরাষ্ট্র — প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে — তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসন প্রক্রিয়া স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত শুধু অভিবাসন নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা, সামাজিক নীতি, বৈশ্বিক ইমেজ — সবকিছুরই পরিবর্তন নির্দেশ করছে। সম্ভাব্য প্রভাব, অস্পষ্টতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা — সবকিছুকেই এখন ঘিরে রয়েছে প্রশ্ন ও উদ্বেগ।




