কৃষ্ণসাগর অতিক্রমকালে রাশিয়াকে অর্থ–যাত্রা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করে আসা বলে অভিযুক্ত ‘ছায়া নৌবহর’ (shadow fleet)-র অন্তর্ভুক্ত দুটি তেলবাহী ট্যাংকার — MT Kairos এবং MT Virat — ইউক্রেনের নৌবাহিনীর সশস্ত্র ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, দুই জাহাজই গাম্বিয়া পতাকাবাহী ছিল এবং নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত। প্রথম হামলায় ড্রোন সরাসরি ট্যাংকারগুলোর দিকে ধাওয়া করে, যার ফলে বিস্ফোরণ ও বড় আগুন লাগে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে — আগুন-ধোঁয়ার মধ্যে জাহাজ জ্বলছে, কালো ধোঁয়া উড়ছে, এবং দ্রুত উদ্ধারকারীরা অভিযান শুরু করেছে।

30 Nov 2025 | Pic: Collected
তুরস্ক উপকূল থেকে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে, ২৫ জন নাবিককে নিরাপদে তোলা হয়। তাদের মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন, এবং প্রতিটি মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী — তাঁরা সবাই নিরাপদ আছেন। বর্তমানে তাদের সঙ্গে যোগাযোগহীনতা বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ওই দুই ট্যাংকার “কায়রোস” এবং “ভিরাট” ছিল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছায়া-নৌবহরের অংশ, যারা ২০২২ সালের রুশ–ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহণে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
এই হামলা — রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থায়ন ও তেল রপ্তানি ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে — ইউক্রেনের নৌ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দেওয়া এক কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও হামলায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হলেও, নৌবাহিনীর দাবি, এই দ্বিতীয় ঝাঁকিতে রাশিয়া-নির্ভর তেল পরিবহন ব্যবস্থা বড় ধাক্কা পাবে; কারণ ‘ছায়া নৌবহর’-র কয়েকটি জাহাজই নিষিদ্ধ ও সন্দেহভাজন ছিল।
অপর দিকে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন, নিরাপত্তা, এবং বিশেষ করে অভিবাসী ও বিদেশি নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নও তুলেছে। নিরাপদ হিসেবে ধরা হত ‘নন-কমব্যাট্যান্ট জাহাজ’ — তারাও হামলার শিকার। এখন প্রশ্ন, এমন ঘটনায় নাবিকদের জীবন নিরাপদ রাখতে হবে কিভাবে, এবং নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গা করার অভিযোগে এমন ‘ছায়া জাহাজ’ গুলোর বিরুদ্ধে কী ধরনের আন্তর্জাতিক আইন বা নজরদারি হবে।
বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলোর নাবিক পরিবার, সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ — সবাই এখন ৪ জন বাংলাদেশি নাবিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আপেক্ষা করছেন। যদিও এখন পর্যন্ত তাদের নাম প্রকাশিত হয়নি। তবে এমন ঘটনায় তারা কোনো কাজে লাগেনি এবং সকল নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে, এই খবর বিষয়টিকে রিলিফ হিসেবে দেখাচ্ছে।
সংক্ষেপে — কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার অস্বচ্ছ ‘ছায়া নৌবহর’-র তেল ট্যাংকারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, ২৫ নাবিক উদ্ধার, ৪ জন বাংলাদেশি নাবিকের মধ্যে থাকা এবং তাঁদের নিরাপদ থাকার খবর — সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক নৌযান, নিরাপত্তা, ও সামরিক-অর্থনৈতিক যুদ্ধের নতুন অধ্যায় বলেই দেখা হচ্ছে।




