ভারতে ন্যাশনাল হেরাল্ড অর্থ পাচার মামলায় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী ও তার মা সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ আনা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের আর্থিক অপরাধ শাখা সূত্রে জানা গেছে, রাহুল-সোনিয়া সহ মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ নতুন এফআইআর (প্রাথমিক অভিযোগ পত্র) আকারে দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে স্যাম পিত্রেওদা এবং আরও তিনজনের নাম এবং তিনটি কোম্পানি — অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড (এজেএল), ইয়ং ইন্ডিয়ান ও ডটেক্স মার্চেন্ডাইজ প্রাইভেট লিমিটেড — উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল হেরাল্ডের মালিক প্রতিষ্ঠান এজেএলের নিয়ন্ত্রণ নিতে কংগ্রেসের দুই নেতা ষড়যন্ত্র করেছেন।

30 Nov 2025 | Pic: Collected
বিশেষ করে কলকাতাভিত্তিক শেল কোম্পানি ডটেক্স মার্চেন্ডাইজ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইয়ং ইন্ডিয়ানকে ১ কোটি রুপি দেয়, যার ৭৬ শতাংশ শেয়ার রাহুল ও সোনিয়া গান্ধীর কাছে। এই লেনদেনের মাধ্যমে মাত্র ৫০ লাখ রুপি খরচে আনুমানিক ২ হাজার কোটি রুপির সম্পদের মালিক এজেএলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। আর্থিক অপরাধ তদন্তের দায়িত্বে থাকা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দিল্লি পুলিশকে দিয়েছিল, যার ভিত্তিতে ৩ অক্টোবর এই এফআইআর দায়ের করা হয়। ভারতীয় অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA) ধারার ৬৬ (২) অনুযায়ী, ইডি কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধের তদন্ত ও অভিযোগ দায়েরের নির্দেশ দিতে পারে।
আদালত ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলার শুনানি ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাহুল-সোনিয়া গান্ধী এবং অন্যান্যদের মাধ্যমে ইয়ং ইন্ডিয়ান কোম্পানি ব্যবহার করে কংগ্রেসকে আর্থিকভাবে লেনদেনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং ভারতের রাজনীতি ও কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংঘাত বিষয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মামলা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের নৈতিকতা এবং আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন উত্থাপন করছে। এফআইআর-এ অভিযোগ করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে কোম্পানি ও লেনদেনের কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল যাতে কম বিনিয়োগে বিশাল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। আদালত এই বিষয়ে সব প্রমাণ ও কাগজপত্র যাচাই করছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলা কংগ্রেসের ভবিষ্যত কর্মসূচি এবং ভোটপ্রক্রিয়ার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই ঘটনার মধ্যদিয়ে ভারতের রাজনীতিতে আর্থিক লেনদেন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়-দায়িত্ব নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। মামলার তদন্ত ও আদালতের শোনা চলমান থাকায় দেশের নাগরিকদের মধ্যে উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যেসব ব্যক্তি অভিযোগে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো ঘটনাটি ভারতীয় রাজনীতিতে আর্থিক ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতার প্রশ্নকে সামনে এনেছে।




