দেশব্যাপী ১—১৬ ডিসেম্বর জুড়ে পালনের জন্য ঘোষিত ‘বিজয় মাস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গত শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে তাদের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল, যেখানে ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘বিজয় মশাল রোড শো’ এবং ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বড় সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঘোষণা করেন যে, দলটি এই সব কর্মসূচি স্থগিত করেছে — কারণ, দলের চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, আর তার শারীরিক অবস্থা এখনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিকিৎসকেরা চিহ্নিত করেছেন; তাই দলের নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

1 December 2025 | Pic: Collected
গত ২৩ নভেম্বর রাতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবনতি হলে, তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাঁর ফুসফুস এবং শ্বাসনালায় সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়, এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা অবিলম্বে বিশ্রাম ও পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন — এই কারণেই পরিকল্পিত ‘মশাল রোড শো’ ও সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আগের দিনের ঘোষণা রদ করে দেয়া হয়। বিএনপি মহাসচিবের আগের ঘোষণায়, রোড-শো শুরু হওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে, এরপর বিভাগীয় পর্যায়ে কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর হয়ে ঢাকায় শেষ সমাবেশ। প্রতিটি বিভাগে মশাল বহন করবেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ও একজন জুলাই যোদ্ধা।
১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল মহাসমাবেশ। কিন্তু স্বাস্থ্যগত কারণে এক দিনের মাথায় পুরো কর্মসূচি রদ হয়ে যাওয়ায়, রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক সংবাদমাধ্যম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকই বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে বৈধ ও দায়িত্বশীল বলে মন্তব্য করেছেন, বিশেষ করে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি বিবেচনায় রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও জনসংহতি বজায় রাখার জন্য এটি যথাযথ পদক্ষেপ বলে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, ‘বিজয় মাস’ উপলক্ষে এমন রূপায়নের বিরতি দলীয় ঐক্য ও গণসংযোগের সুযোগ থেকে ও জেলাপ্রতিনিধিদের কর্মসূচি ও আগাম প্রস্তুতিতে নষ্ট হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদিও রোড-শো স্থগিত হয়েছে, তবু বিএনপির মূল উদ্দেশ্য — মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের স্মৃতি ও মূল্য — জনগণের মধ্যে রক্ষা রাখতে পারলে, এটি তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে না। তাছাড়া, দলের জন্য স্বাধীনতার অর্থ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও জাতীয় আত্মপরিচয় রক্ষা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং রোড-শো বাদ দিলেও তারা আলোচনা সভা, ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা, ভার্চুয়াল ও স্থানীয় উদ্যোগের মাধ্যমে ‘বিজয় দিবস ২০২৫’ উদযাপন করার পরিকল্পনা করতে পারে। অন্যদিকে, আগামী দিনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত উন্নতি হলে দল আবার নতুন কর্মসূচি দিতে পারে — বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থগিতকৃত রোড-শো পুরোপুরি বাতিল নয়, সময়মতো পুনরায় সংশোধন হতে পারে। সব মিলিয়ে, বিএনপি সিদ্ধান্তের সঙ্গে জনস্বাস্থ্য, দায়বদ্ধতা ও রাজনৈতিক বুঝাপড়াকে গুরুত্ব দিয়ে চলেছে, যা বর্তমান বাংলাদেশি রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত।



