ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্র ও তাঁর নীতি নিয়ে তৈরি “ক্রমবর্ধমান ও অবৈধ হুমকি” মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন OPEC–এর কাছে সহায়তা চেয়েছেন; রবিবার (৩০ নভেম্বর ২০২৫) OPEC ও প্রাথমিকভাবে OPEC+ সদস্য দেশগুলোর উদ্দেশ্যে পাঠানো এক চিঠিতে মাদুরো স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের তেল মজুদ ও রপ্তানি কার্জবর — যা বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুদ হিসেবে বিবেচিত — জবরদস্তি করে দখল করার চেষ্টা করছে, এবং এই ধরনের আগ্রাসন শুধু ভেনেজুয়েলার জন্য নয়, গোটা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ভারসাম্যের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি।

1 December 2025 | Pic: Collected
চিঠিতে মাদুরো আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ড, জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে শুধু ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও গ্লোবাল সামরিক সংহতি ভাঙবে। তাই তিনি আশা করেন যে OPEC সদস্য দেশগুলো যৌথভাবে এবং শক্তিশালীভাবে এই হুমকির মোকাবিলা করবে, এবং বিশ্ব তেলের দামের ভারসাম্য বজায় রাখবে।
ভেনেজুয়েলার তেল মজুদের পরিমান আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল — যা ২০২৩ সালের হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রমাণিত রিজার্ভ। যদিও ২০২৩ সালে দেশটি মাত্র ৪.০৫ বিলিয়ন ডলারের তেল রপ্তানি করতে পেরেছিল, মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে।
মাদুরোর এই আবেদন এমন এক সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার ওপর নানা প্রভাব ও হুমকির কথা বলেছে। সম্প্রতি ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ‘বন্ধ’ বলে ঘোষণা করা যেতে পারে — যা Caracas সরকারের মতে, এক ধরনের ঔপনিবেশিক হুমকি।
এই উত্তেজনা, আইনগত চাপ ও আন্তর্জাতিক হুমকির মধ্যেই মাদুরোর এই চিঠি ভেনেজুয়েলার জন্য এক নতুন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরি করেছে। কারণ — যদি OPEC সদস্য দেশগুলো সাড়া না দেয়, তাহলে ভেনেজুয়েলার রপ্তানি ও তেল আয় পিছিয়ে যাবে; অন্যদিকে, সদস্য দেশগুলো যখন প্রত্যুত্তর দিচ্ছে, তারা জানে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চাপ ও প্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুহূর্তটি গ্লোবাল অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং রাজনৈতিক সম্পর্কের জন্য সংবেদনশীল সময়।
মাদুরো দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ফিরে আসা যেকোনো আগ্রাসন — সেটা সামরিক হোক বা অর্থনৈতিক — “গ্লোবাল তেলের বাজার ও উৎপাদনকারী দেশগুলোর সমন্বিত স্বার্থের বিরুদ্ধে” এবং তাই তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি OPEC এবার মাদুরোর পক্ষে দাঁড়ায়, তাহলে সেটি শুধু ভেনেজুয়েলার জন্য নয়, পুরো তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে নতুন মডেল হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি, অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব এবং বর্তমান গ্লোবাল জ্বালানি চাহিদা — সব মিলিয়ে এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়।
এই চিঠি, আবেদন এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া — সবকিছু এখন নজরদারি ও বিশ্লেষণ পর্যায়ে। আগামী দিনগুলোতে OPEC, বিশেষ করে কিছু ঘনিষ্ঠ সদস্য দেশ যেমন ইরান, সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক — তাদের প্রতিক্রিয়া এবং সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্ব তেলের বাজার ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কারবারের ওপর গুরুত্বপুর্ণ প্রভাব পড়বে।




