বলিউড অভিনেত্রী Aishwarya Rai Bachchan–কে (ঐশ্বরিয়া রাই) বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের ধর্মবিশ্লেষক Mufti Abdul Qavi। সম্প্রতি এক পডকাস্টে Mufti Qavi জানিয়েছেন, যদি ঐশ্বরিয়া ও তাঁর স্বামী Abhishek Bachchan–র মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়, তাহলে ঐশ্বরিয়া নিজেই তাঁর কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবেন।
Mufti Qavi আরও বলেন, ঐশ্বরিয়াকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে নতুন নাম দেওয়া হবে ‘Ayesha Rai’ এবং তারপরই বিয়ে সম্পন্ন হবে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মতে, ঐশ্বরিয়া এমন সুন্দরী মানুষ — যিনি যদি সেই ধর্ম গ্রহণ করেন, তাহলে “Ayesha Rai” নামে তার পাশে থাকা “দারুণ লাগবে।”

2 Dec 2025 | Pic: Collected
এই মন্তব্য সামাজিক মিডিয়া ও বিনোদন অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই Mufti Qavi–র বক্তব্যকে অবাঞ্ছিত, অশোভন বা অপ্রাসঙ্গিক বলছেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন, “রূপ‑সংষ্কৃতি, ধর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের স্বাধীনতা–সব কিছুই ব্যক্তির নিজস্ব বিষয়; কারোর বিরুদ্ধে এমন দাবি করা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
গুরুত্বপূর্ণ হলো: ঐশ্বরিয়া বা অভিষেক বচ্চনের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কোনো অফিসিয়াল মুখপাত্র বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তাঁরা মন্তব্য করেননি। ফলে, বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত গুঞ্জন এবং আলোচনা রয়েছে, অফিসিয়াল কোনো নিশ্চয়তা বা ঘোষণা নেই।
Mufti Qavi–র এই দাবির প্রেক্ষিতে, বিশেষ করে ধর্ম, নৈতিকতা, গুণগত মূল্যায়ন ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন — এমন কি, তিনি কি নিজের বক্তব্য ফিরিয়ে নেবেন, নাকি এমন মন্তব্যকে ধর্মীয় ব্যাসিক চাহিদা বা উদ্যোগ হিসেবে দেখবেন?
যেখানে ২০২৫ সালের শেষ বছর — গ্লোবাল সামাজিক যোগাযোগ, জাত‑ধর্ম বিশ্লেষণ, এবং বিনোদন‑সংস্কৃতির সংমিশ্রণ অতিশয় সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, সেখানে এই ঘটনা আবারেকবার সামাজিক বিতর্ক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন বিষয় ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত; কারো ব্যক্তিপরিচয়, ধর্মান্তর বা বিয়ে — সবকিছুই মৌলিক অধিকার। যে কেউ চাইলে, সামাজিক সম্মান, গোপনীয়তা ও বিচার‑বিচার ব্যবহার করে বিষয়টি মোকাবিলা করতে পারে।
তবে, যখন একজন ধর্মীয় ব্যক্তি, বিশেষ করে সম্প্রদায়ের নেতা বা মুফতি — এমন দাবি করে, তখন সেটা জনসাধারণ ও মিডিয়া‐ভুক্তির বিষয় হয়ে যায়। Mufti Qavi–র এই মন্তব্য পুনরায় প্রমাণ করে, কেন ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নুড়িপচা গুজব, গঠনাতীত দাবী ও বিতর্ক সহজেই সৃষ্টি হয়ে যায়, বিশেষ করে যখন ব্যক্তি‑পরিচয় এবং ধর্মীয় অনুভূতি জড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনা শুধু বিনোদন বা গুঞ্জন নয়; এটি ধর্ম, ব্যক্তি‑স্বাধীনতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও গ্লোবাল মিডিয়া‑সংযোগের এক জটিল মিশ্রণ। ভবিষ্যতে হয়তো ঐশ্বরিয়া নিজেই বলবেন, এ বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনা বা বিচার; অথবা বিষয়টি ধীরে ধীরে কম গুঞ্জন হয়ে যাবে।
যাই হোক, বর্তমানে এই দাবি, বোল্ড মন্তব্য এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়া — সব মিলিয়ে এক নতুন বিতর্ক — যা শুধু বলিউড বা পাকিস্তান নয়; দক্ষিণ এশিয়া, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা, নারী‑স্বাধীনতা ও গ্লোবাল মিডিয়া‑চিত্র সবকিছুকে স্পর্শ করছে।




