দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা করছে interim সরকার, এবং এ নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর — এমন আশাবাদ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) মিরপুর সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স‑২০২৫ সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয় — এটি হবে আমাদের জাতির গর্ব, এক নতুন শুরু, উন্নয়ন ও সর্বিক উন্নয়নের প্রতীক।”
3 Dec 2025 | Pic: Collected
উল্লেখ্য, এই নির্বাচনে সাধারণ জনগণ, রাজনৈতিক দল, নিরাপত্তা বাহিনী — সকলেই অংশ নেবে। ইউনূস বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা, সেনাবাহিনী, পুলিশ, প্রশাসন — সবাই একসঙ্গে কাজ করবে যাতে ভোট সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হয়। তিনি আরও দাবি করেন, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ ও সংশ্লিষ্ট কুরসগুলো জাতীয় কর্মক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কয়েনার ভূমিকা পালন করছে, যাতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো নেতিবাচক ঘটনা না ঘটে।
প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ মানুষে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন — যদি সত্যিই নির্বাচন শান্তি এবং স্বচ্ছভাবে হয়, তাহলে জনগণ একটি নতুন সময় দেখবে।
অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন — ইতিমধ্যেই যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা সব সময় নির্বাচন ও নিয়মনীতির প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে দিতে পারেনি। আগামী নির্বাচন নিয়ে তাই শুধু প্রতিশ্রুতি নয় — প্রতিফলন চাই জনগণের।
সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সংস্কার, আইনি সুশৃঙ্খলা এবং ভোটারের অধিকার — সব মিলিয়ে এখন জনগণের প্রত্যাশা অনেক উচ্চ। ইউনূসের কথায়, “এই নির্বাচন হলে জাতি গর্ব করবে” — কিন্তু তার সাথে শর্ত রেখেছেন, এটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হতে হবে।
দেশের মানুষের ওপর এখন দায়িত্ব বেশি। শুধু ভোট দেওয়া যথেষ্ট নয় — ভোটের সঠিক মূল্যায়ন, সচেতন অংশগ্রহণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলগুলো, নাগরিক সমাজ, রূপান্তরবাদী যুবসমাজ — সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এই নির্বাচনের ফলাফল শুধু দায়িত্বশীল সরকার গঠন নয় — এটি হবে দেশের ভবিষ্যৎ, মানুষের আস্থা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ। আগামী কয়েক মাস দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক দিক থেকে উৎসাহ ও দায়বদ্ধতার পরীক্ষা হবে।



