যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন গ্রিনকার্ড এবং নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার কারণে নেওয়া হয়েছে। ১৯টি দেশের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, ইয়েমেন, সিরিয়া, লিবিয়া, নিকারাগুয়া, জিম্বাবুয়ে এবং আরও কিছু দেশের নাগরিক। এই দেশগুলোর নাগরিকরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবে না।
3 Dec 2025 | Pic: Collected
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (DHS) জানিয়েছে, নতুন নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস করা এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা। DHS আরও জানিয়েছে, যারা ইতিমধ্যেই গ্রিনকার্ড বা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের প্রক্রিয়া চলবে তবে নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রভাবিত দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর এটির প্রভাব পড়তে পারে। অভিবাসন অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা। তারা জানিয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ ক্ষুদ্র নাগরিকদের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে এবং মানবিক কারণে আশ্রয়প্রার্থীদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে স্থানীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ও উদ্বিগ্ন। অভিবাসী অধিকার সংরক্ষণে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ইতিমধ্যেই আপিল জানিয়েছে, যাতে প্রভাবিত নাগরিকরা বৈধভাবে আবেদন করতে পারে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে ছাড়পত্র পান। DHS জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা ও মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রভাবিত দেশগুলোর নাগরিকরা এখন দীর্ঘ অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। এ সিদ্ধান্তের প্রভাব কেবল আবেদনকারীদের নয়, তাদের পরিবার, অভিবাসী সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আগামীতে অভিবাসন নীতি এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে।



