চীন এই বছর গাজা পুনর্গঠন ও মানবিক সংকট লাঘবে Palestinian Authority (পিএ)-কে ১০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১০০ মিলিয়ন USD) সহায়তা দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্ট Xi Jinping এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron-র সঙ্গে বেইজিংয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই অনুদানের কথা জানানো হয়।
5 Dec 2025 | Pic: Collected
চীনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে পিএর প্রেসিডেন্ট Mahmoud Abbas চিঠি পাঠিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।ওই চিঠিতে গাজা এবং পশ্চিম তীরের নিয়্যায় বিশ্বাস, ফিলিস্তিনিদের অধিকার সংরক্ষণের দিকে চীনের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ন্যায়বিচার চেষ্টায় চীনের সমর্থনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চীন শুধু ১০ কোটি ডলার অর্থ নিয়ে থেমে যাচ্ছে না; গত দুই বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা হিসেবে খাদ্য, ওষুধ, আশ্রয় ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পাঠিয়েছে। এক পর্যায়ে চীন ৬০,০০০ পরিবারকে খাদ্যদ্রব্য প্যাকেট পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যার অধিকাংশ প্যাকেট ইতিমধ্যে গাজায় পৌঁছেছে।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Lin Jian জানিয়েছেন, গাজায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি, পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতার জন্য শুধু সাময়িক ত্রাণ নয়, সাংগঠনিকভাবে সহায়তা প্রয়োজন। তাতে গাজার বাসিন্দারা ফিরে যেতে পারবে, ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামো মেরামত হবে এবং শান্তিপূর্ণ জীবন শুরু করতে পারবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের এই পদক্ষেপ শুধু আর্থিক নয়; এটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি — গাজা ও ফিলিস্তিনিদের পাশে ঘনিষ্ঠ সহায়তা দেখানোর প্রতীক, যা মধ্যপ্রাচ্যের অলটীক নীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্যে চীনের প্রভাব বাড়াতে পারে।
তবে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে চ্যালেঞ্জগুলোও রয়েছে। গাজায় যুদ্ধের ফলে ধ্বস্ত ভবন, বেসামরিক জীবনের ধ্বংস, নিরাপদ পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, দারিদ্য, উদ্বাস্তু মানুষের নিরাপত্তা — সবকিছুই পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য সময়, দায়িত্বশীলতা ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় চাইবে।
চীনের এই সহায়তা ঘোষণার পর গাজা পুনর্গঠন, সম্প্রদায় পুনর্বাসন ও বেসামরিক জীবনের ধাপে ধাপে পুনরুদ্ধারের দিকে নতুন আশা জেগেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন দ্রুত কাজ করতে হবে যাতে উপযুক্ত বাজেট, নিরাপদ পরিবহন, চিকিৎসা, শিক্ষা, আবাসন ও বেসামরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।



