এই সপ্তাহে আবারও United States Navy (মার্কিন নৌবাহিনী)-র নেতৃত্বে, ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদকপাচারকারী নৌযানকে লক্ষ্য করে একটি প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে যার ফলে চারজন নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) জানায় যে নৌকাটিকে একটি “নির্ধারিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী” (designated terrorist organization)-র নিয়ন্ত্রিত হিসেবে সন্দেহ করা হতো এবং গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ওই নৌকায় অবৈধ মাদক ছিল। অভিযানের নির্দেশ দেন Pete Hegseth। যদিও মার্কিন সরকার বলেছে এটি মাদকপাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাবস্থায় নৌবাহিনীর অংশ হিসেবে, কিন্তু মানবাধিকার বিশ্লেষকরা এবং কিছু আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এই ধরণের হামলাকে “বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড” হিসেবে দেখছেন।
5 Dec 2025 | Pic: Collected
এই হামলা সেই উচ্চাঙ্গের অংশ, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু — যেখানে গত কয়েক মাসে একই অঞ্চলে সন্দেহভাজন নৌকাগুলোর বিরুদ্ধে ২০টির বেশি স্ট্রাইক চালানো হয়েছে এবং প্রায় ৮০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রি সামরিক সূত্র দাবি করেছে। কিন্তু এই অভিযান ও তার ফলাফল নিয়ে কংগ্রেসে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২ সেপ্টেম্বরের একটি হামলায় প্রথম নৌকাভShelled strike-এর পর, বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের ওপর দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়েছে বলে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে জানা গিয়েছে — যা যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারযোগ্য হতে পারে, এমন অভিযোগ উঠেছে।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্রি প্রশাসন মাদক চোরাচালান রোধ এবং একজন নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে এই নৌযানগুলোকে দেখছে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন, আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ এবং অনেক দেশ বলছে — পানিসীমা বা আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন হামলা ও “সৎকার সক্ষমতা ছাড়া” নিহত করা আন্তর্জাতিক আইন এবং ন্যায়বিচারের নিয়মের বিপরীতে যায়।
ভেনেজুয়েলার সরকার ইতিমধ্যেই এই হামলাকে ‘অভিযুক্ত’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য — যদি নৌকাটা আসলেই মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে’arrest and trial’ হওয়া উচিত ছিল, হত্যাকাণ্ড নয়।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে এবং আইনি ও নৈতিক দিক থেকে পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছে। কারণ, একদিকে যুদ্ধবিরোধী ও মাদকপাচার বিরোধী অভিযানের প্রয়োজন স্বীকার করলেও, আইন অনুযায়ী জলসীমায় কোনো নৌকাকে হত্যা করার আগে যথাযথ তদন্ত, প্রমাণ-উৎসর্গ এবং আদালতের নির্দেশ অপরিহার্য।
সংক্ষেপে, ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর সাম্প্রতিক হামলা — যেখানে চারজন নিহত হয়েছে — শুধু এক ঘটনা নয়; এটি ২০২৫ সালের মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই দুশো শতাধিক সন্দেহভাজন নৌযান লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে অবৈধভাবে জাহাজে হামলা, শান্তিপূর্ণ নৌচলাচল, জলনিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন—এসব প্রশ্ন পুনরায় আলোচনায় এসেছে।



