বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো এবং এর জন্য কাতারের আমির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ঢাকায় পাঠানোর কথা ছিল। ৫ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিশ্চিত করেন, ওই বিশেষ বিমান নির্ধারিত সময় পৌঁছায়নি।
5 Dec 2025 | Pic: Collected
এর ফলে খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা অন্তত এক দিন পিছিয়ে গেছে। পরে জানা যায়, মূল কাতারি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি কার্যকর হয়নি; তাই কাতার সরকার জার্মানিতে ভাড়া করা একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পাঠাচ্ছে, এবং সেটি শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকায় অবতরণের কথা। তবে, খালেদা জিয়া লন্ডন যাত্রা করবেন কি না, সেটা পুরোপুরি নির্ভর করছে — তার শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসকদের অনুমোদন এবং বিমান আসার সময়ের ওপর।
বর্তমানে, খালেদা জিয়া রাজধানীর এক প্রাইভেট হাসপাতালে (Evercare) চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থার সঙ্গে রয়েছে জটিলতা — চিকিৎসকরা বলছেন, যেহেতু সুস্থতার নিশ্চয়তা নেই, তাই বিমানযোগে বিদেশ যাত্রা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে চিকিৎসা বোর্ড ও পরিবার-উভয়ের মতামত ও পরিস্থিতি দেখে। শুক্রবার দুপুরে, বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের বলেন, “যদি মেডিকেল বোর্ড ও চিকিৎসকরা অনুমোদন দেন, এবং বিমান ঠিক সময়ে পৌঁছায়, তাহলে রোববার (৭ ডিসেম্বর) লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা সম্ভব”।
গতির জন্য ভ্যাটিকাল কারণে, স্বাস্থ্য অবস্থা, বিমান আর নিরাপত্তার সব লাগাম ছাড়িয়ে — এই পুরো প্রক্রিয়া এখন একধারে ‘মানবিক + চিকিৎসাগত + কূটনৈতিক’ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকেই খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য অবনতির খবর ছড়াতে থাকে, এবং বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় সামনে এসেছে।
এবার যা স্পষ্ট হলো — শুধু পরিকল্পনা বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নয়, চিকিৎসা, জটিলতা ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় ছাড়া বিদেশ যাত্রা প্রায় অসম্ভব। এ সময়, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের নির্ভরযোগ্যতা, সময়মতো এসে হাজির হওয়া, হাসপাতাল ও চিকিৎসা হিসেবে যে স্যাক্টর রয়েছে — সবকিছু মিলে গড়তে হবে। না হলে, যাত্রা স্থগিত বা পরিবর্তন হওয়া আবারো সম্ভব।
বর্তমানে দেশজুড়ে উত্তেজনা ও শঙ্কা বিরাজ করছে। অনেকেই জানতে চাচ্ছেন, এবার শেষ পর্যন্ত কি খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে পারবেন? কবে? এবং তাঁর স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা কি প্রকৃত? যদিও সবকিছু এখনও অনিশ্চিত। অবশ্যই, পরবর্তী ২৪–৪৮ ঘণ্টায় জানানো হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত — তারপরে জনগণ, রাজনৈতিক দল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরাও একটু স্পষ্ট দৃষ্টিতে দেখতে পাবেন।



