নিউ ইয়র্ক টাইমস যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেটহ সহ পেন্টাগনের মুখপাত্রসহ দায়ী করে একটি ফেডেরাল মামলা দায়ের করেছে কারণ এই দপ্তর ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে এমন একটি নতুন মিডিয়া/প্রেস পলিসি চালু করেছে যা সাংবাদিকদের জন্য বাধ্যতামূলক পত্রে স্বাক্ষর করার দাবি জানায় এবং সেই press‑credential পেতে হলে সাক্ষর করা আবশ্যক। এই নীতিমালা অনুসারে সাংবাদিকদের অনুমোদন ছাড়া কোনো তথ্য সংগ্রহ, অননুমোদিত উৎস থেকে তথ্য চাওয়া বা প্রকাশ করা যাবে না — এমনকি যেসব সংবেদনশীল নয় এমন (unclassified) তথ্যও। Times–এর মামলায় বলা হয়েছে, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের First Amendment (স্বাধীন সংবাদপত্র ও মত প্রকাশের অধিকার) এবং Fifth Amendment (due process / ন্যায্য প্রক্রিয়ার অধিকার)–র স্পষ্ট লঙ্ঘন।
5 Dec 2025 | Pic: Collected
মামলায় আরোপ করা হয়েছে, পেন্টাগনের নতুন নীতি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে প্রেস‑পাসকে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নয় বরং জন্য একটি বাধা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের হাতে এমন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে তারা একক সিদ্ধান্তে যেকোনো সাংবাদিকের প্রবেশাধিকার বাতিল করতে পারে — এমনকি যদি তাদের প্রতিবেদন শুধুই সরকারি নথি বা অননুমোদিত নয় এমন তথ্যের ওপর হয়। Times–র আইনজীবীরা দাবি করছেন, “প্রেস পাসটিকে শিকল বানানো হয়েছে, যেখানে এটি আগে ছিল সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রতীক।”
মূলত, অক্টোবর ২০২৫–এ প্রবর্তিত ওই নতুন নিয়ম অনুসারে পেন্টাগন‑সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহে ২১ পৃষ্ঠার এক শর্তাবলী স্বাক্ষর করতে হতো, যেখানে সাংবাদিকদের প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছিল যে তারা যাচাই‑যোগ্য অনুমোদন ছাড়া কোনো তথ্য চাইবে বা প্রকাশ করবে না। অনেক প্রভাবশালী মিডিয়া — যেমন The New York Times, The Washington Post, Associated Press, CNN — এই অস্বস্তিকর শর্ত আর মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তাদের প্রেস পাস বাতিল হয়।
নিউজ অর্গানাইজেশনগুলো বলেছে যে এই ধরনের নীতি একটি “নিয়ন্ত্রিত সংবাদ পরিবেশ” গড়ে তুলতে চায় — যেখানে সরকার যা চায়, তা সংবাদপত্রই রিপোর্ট করবে, অন্যথা তাদের প্রবেশাধিকার কেড়ে নেওয়া হবে। পেন্টাগন পক্ষ বলেছে, এই নীতি “কর্মসংগতি এবং নিরাপত্তার স্বার্থে” প্রয়োজনীয়, যাতে সেনাবাহিনীর সংবেদনশীল বা গোপন তথ্য নিরাপদ থাকে এবং “ন্যূনতম সাধারণ বোধ” বজায় থাকে।
মামলায় The New York Times–র পাশাপাশি তাদের জাতীয় নিরাপত্তা রিপোর্টার Julian E. Barnes–কে (যিনি পেন্টাগনের প্রেস-করিডর ছাড়েছেন) বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা বিচার বিভাগকে অনুরোধ করেছে, নতুন নীতিগুলোর যে অংশগুলি সাংবাদিকদের মৌলিক অধিকার সীমিত করে — সেগুলো বাতিল করতে, এবং পেন্টাগনের একক ক্ষমতা-ভিত্তিক নিয়োগ পদ্ধতি বন্ধ করতে।
বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো শুরু। তবে বিষয়টি শুধু একটি মিডিয়া-সংস্থা এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের মধ্যে বিরোধ নয় — এটি যুক্তরাষ্ট্র এবং সম্ভবত গ্লোবালি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, জনগণের জানার অধিকার, এবং সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলো এবং আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন — যদি এ ধরনের পলিসি অনুমোদন পায়, তাহলে সংবাদপত্র শুধু রাষ্ট্রীয় নির্ধারিত তথ্যই নয়, তাদের দৃষ্টিকোণ, অনুসন্ধান, অনুসন্ধানী রিপোর্টিং সবই সীমাবদ্ধ হবে এবং গোপনীয়তায় আবৃত থাকবে — যা গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক বসবাসের মূল ভিত্তি।
এই মামলা প্রকাশ করেছে যে, ২০২৫ সালের শেষের দিকে পেন্টাগন এবং নিউ মিডিয়া ভারসাম্যের যে রূপ ছিল — সেটি রীতিমতো বদলে গেছে। পেন্টাগনের প্রেস করপাস এখন মূলত এমন মিডিয়া সংস্থা ও প্রভাবশালীদের দিয়ে গঠিত যারা নতুন নিয়ম মেনে নিয়েছে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। যেসব সংবাদপত্র এবং মিডিয়া সংস্থা এখনো মেনে নেয়নি, তারা দূর থেকে প্রতিবেদনের চেষ্টা করছে — কিন্তু তাদের বলছেন, “পেন্টাগন অভ্যন্তরীণ সংবাদ সংগ্রহ” ছাড়া অনেক ঘটনা আসল সময়েই সঠিকভাবে রিপোর্ট করা যাবে না।
সংক্ষেপে, The New York Times–এর বিরুদ্ধে চলমান এই মামলা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটি সিদ্ধান্ত করবে — যুক্তরাষ্ট্রে কি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং স্বাধীন খবর সংগ্রহের অধিকার এখনও টিকিয়ে রাখা যাবে, নাকি সরকারের নতুন নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা ও জনগণের জানার অধিকারকে সংকুচিত করবে।



