৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানের Khyber Pakhtunkhwa (কে.পি) প্রদেশের Tank District এবং Lakki Marwat District–এ দুইটি বৌদ্ধিক গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে (intelligence-based operations) সন্দেহভাজন “ভারতপন্থি” সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ৯ সদস্য নিহত হয়েছে। প্রথম অভিযানে Tank-এ সাত জন এবং Lakki Marwat-এ দ্বিতীয় অভিযানে দুই জন মিলিয়ে ৯ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
6 Dec 2025 | Pic: Collected
আইএসপিআর দাবি করেছে, এ সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে বহু সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত ছিল। অভিযানের আগে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায় যে, তারা Tank এবং Lakki Marwat-এ অবস্থান করছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী রাতের কর্মসূচি চালিয়ে তাদের আস্তানায় ওপর একাধিক গুলিবিনিময় করে।
পাকিস্তান Today, Dawn ও Desh Rupantar–সহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও এই খবরটি সম্প্রচারিত হয়েছে।Dawn-র প্রতিবেদন জানায় যে নিহতরা “Fitna al-Khawarij” নামক নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল; সরকার এই নামে TTP (Tehrik‑i‑Taliban Pakistan) বা তার সহায়করা বোঝায়।
আইএসপিআর বলেছে যে, এই অভিযান একক নয় একই প্রক্রিয়া অনুসারে ভবিষ্যতেও “স্যানিটাইজেশন অভিযান” চালানো হবে, যাতে সম্ভাব্য অন্য ভারত সমর্থিত সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি নির্মূল করা যায়।
এই খবরের প্রেক্ষিতে, পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা মন্তব্য করেছেন যে ২০২৫ সালে কে.পি প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর শক্তিশালী অভিযান এবং গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানের ফলে সশস্ত্র সন্ত্রাস ও অপব্যবস্থাপনাকে টার্গেট করা হচ্ছে। আগেও ২০২৫ সালের মধ্যে একই প্রদেশে নানা অভিযান চালানো হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক সন্ত্রাসী নিহত বা গ্রেফতার হয়েছে।
এই ঘটনা শুধু একটি অভিযানের ফল নয়; এটি নির্দেশ করে যে পাকিস্তান ইতোমধ্যেই “বিদেশি অর্থায়িত সন্ত্রাস ও প্ররোচনা” মোকাবিলায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, “ভারতপন্থি” বা “বিদেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রদেশীয় জঙ্গি কার্যকলাপ, অপহরণ, তৎপর ও হামলায় জড়িত ছিল।
যদিও পাকিস্তানের মিডিয়া ও সরকারি সূত্র বলছে যে নিহতরা সন্ত্রাসী ছিল, কিন্তু এই ধরনের দাবিতে সাধারণত যুক্ত তথ্য, আলাদা গনজরিপ, এবং নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বা স্বাধীন তদন্ত না হলে, “ভারতপন্থি” বা “foreign-backed terror” বলে চিহ্নিত করার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
এই অভিযানের পরে, প্রাদেশিক প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ সতর্ক অবস্থানে এসেছে। প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সাধারণ জনগণকেও চোরাপথ, গোপন নেটওয়ার্ক, সন্ত্রাসী সংগঠন ও প্ররোচনা বন্ধে কাজ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। নিরপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা এগুলোকে আরও শাণিত করা হবে।
সংক্ষেপে, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সশস্ত্র অভিযানে ৯ জন “ভারতপন্থি” সন্ত্রাসীদের নিহত হওয়ার খবর নতুনভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। যদিও সরকার বলছে, এটি বিদেশি অর্থায়িত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাদের পদক্ষেপ, কিন্তু আন্তর্জাতিক ও বিশ্লেষণাত্মক পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে, প্রমাণ ছাড়া “ভারতপন্থি” লেবেল দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া দূরদৃষ্টিহীন হতে পারে।
এই ঘটনাটি শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ঘটনা নয় দক্ষিণ এশিয়া, সীমান্তনিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।



