রাজশাহী জেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–র অভ্যন্তরে দলীয় মতপার্থক্যের কারণে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়েছে এবং সেই প্রেক্ষিতে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতের এক ফেসবুক পোস্টে দলনেতা ও সাবেক কমিটির সদস্য মোতালেব হোসেন ঘোষণা দিয়েছেন যে সারজিস আলমকে “রাজশাহীর মাটি থেকে অবাঞ্ছিত” ঘোষণা করা হয়েছে।
6 Dec 2025 | Pic: Collected
মোতালেবের অভিযোজিত অভিযোগ হলো, ২৯ নভেম্বর ঘোষিত নতুন জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে কিন্তু তিনি (সারজিস) আপত্তি জানিয়েছেন, এবং দলের শৃঙ্খলা ভূষণে নতুন আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম–কে বহিষ্কার না করার কারণে সারজিসকে দোষারোপ করা হচ্ছে। এনসিপির জেলা ও মহানগর কমিটির ঐ বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এবং মশাল মিছিল, দেয়াল লিখন, কার্যালয়ে তালা, অবরুদ্ধের মতো ঘটনা ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছে।
সারজিস আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলেও, তিনি এবং তার পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে, এবং দলীয় বিভাগীয় নেতা ইমরান ইমন কল ধরেননি। অভিযোক্তারা বলছেন, সাইফুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট (আওয়ামী দলের সঙ্গে মিত্রতা বা দোসর ভাবের অভিযোগ)–এ কাজ করার জন্য এবং সারজিস এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করায় তাকে “অবাঞ্ছিত” ঘোষণা করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে এনসিপির রাজশাহী জেলা-প্রশাসনিক কাঠামায় সাময়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় অভ্যন্তরে বিভাজন, নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, আভ্যন্তরীন গোষ্ঠাগত দ্বন্দ্ব — এসব এখন সামনে এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু সারজিস আলম এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ছিলেন এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় — তাঁর বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত দলকে আরও ভাঙাচুরার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে, সারজিস নিজেও আগে বিভিন্ন সময়ে দলীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে গেছেন ২০২৫ সালের ৫ মে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া’কে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেছিলেন এবং রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। এর আগে তিনি ধর্ম, রাজনীতি, ছাত্র আন্দোলন এবং উত্তরাঞ্চলীয় সংগঠন নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
বর্তমানে এনসিপির রাজশাহী জেলা, মহানগর ও বিভাগীয় শরীরে অব্যক্ত গোষ্ঠাগত চাপ, সমন্বয়হীনতা ও বিভাজন এসব মিলিয়ে বলা যাচ্ছে যে, শুধু সারজিস আলমই নয়, দল নিজের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা হারানোর মুখে। দলের একাংশ দাবি করছে যদি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সঙ্গেই ভোট না হয়, তাহলে পুরো জেলা ও মহানগর কমিটিই “অবাঞ্ছিত” ঘোষণা করা হবে।
সংক্ষেপে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সারজিস আলমকে রাজশাহীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো দলীয় বিভাজনের বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক পালাবদলে, আগামিকালের এনসিপি রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক ভবিষ্যত কি হবে, সেটি এখন সময় বলবে।



