নিউয়র্কে গৃহহীনদের সমস্যাকে সমাধান করার জন্য স্থায়ী গৃহায়নের দিকে মনোনিবেশ করতে চান স্থানীয় সমাজকর্মী জোরান মামদানি; তিনি মনে করেন, শুধু তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয় দেওয়ায় সমস্যার সমাধান হবে না, বরং মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই বাসস্থান দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মামদানি জানান, বিশেষ করে শীতের সময় বা প্রকৃতিক দুর্যোগের সময়ে গৃহহীনরা তাঁবুতে থাকতে বাধ্য হয়, যা তাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদার জন্য বিপজ্জনক। তাই তার পরিকল্পনা হলো অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রের পরিবর্তে গৃহায়নের প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়া। এই বিষয়ে তিনি বিভিন্ন স্থানীয় প্রশাসন, এনজিও ও সমাজসেবী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, যাতে তহবিল, বাসস্থান নির্মাণ এবং সহায়ক পরিষেবার মাধ্যমে গৃহহীনদের জন্য নিরাপদ, কার্যকর এবং টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।
7 Dec 2025 | Pic: Collected
মামদানির মতে, শুধু তাঁবু বা অস্থায়ী শিবিরে মানুষকে রাখা সমাজের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সমাধান নয়; বরং ঘর পেলে মানুষ তার জীবন, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের দিকে মনোযোগ দিতে পারবে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সহায়ক হবে। তিনি বলেন, “মানুষকে তাঁবুতে রাখা মানে সমস্যা সাময়িকভাবে লুকানো; গৃহায়নই হলো মূল সমাধান।” মামদানির উদ্যোগে সম্প্রতি এক সমীক্ষা ও জরিপ পরিচালিত হয়েছে, যা দেখিয়েছে নিউয়র্ক শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫–২০ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে। এই জরিপে উদ্ভূত তথ্য অনুযায়ী, শহরের প্রশাসন ও স্থানীয় সংগঠনগুলো যদি স্থায়ী গৃহায়নে বিনিয়োগ করে, তাহলে অস্থায়ী আশ্রয়ের চাপে থাকা মানুষের জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব। এছাড়া, মামদানি স্থানীয় আইনপ্রণেতা ও নাগরিক সমাজকে বলেছেন, গৃহায়নের প্রকল্প শুধু বাসস্থান প্রদান নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংযুক্ত করলে তা আরও কার্যকর হবে।
তিনি বলেছেন, “আমরা শুধু তাঁবু দিচ্ছি, এটা সমস্যা সমাধান করছে না; কিন্তু যদি মানুষকে ঘর দেওয়া হয়, তারা আত্মনির্ভর হতে পারবে এবং সমাজে সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে।” তার কথায়, গৃহায়ন কেবল একটি বসবাসের স্থান নয়, এটি মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির প্রতীক। মামদানির উদ্যোগে ইতিমধ্যেই কয়েকটি pilot প্রকল্প শুরু হয়েছে, যেখানে অস্থায়ী আশ্রয় থেকে কয়েকশো মানুষকে টেকসই ঘরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোতে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয় হলো — মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য শুধু তহবিল নয়, পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি আরও জানিয়েছেন, “শহরের প্রশাসন, এনজিও এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ছাড়া এই প্রকল্প সফল হবে না।” মামদানির এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গা সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি অন্যান্য শহর ও দেশও এ ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করে, তাহলে গৃহহীন সমস্যা সমাধানে বাস্তবিক উন্নয়ন সম্ভব। এছাড়া, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানুষকে সমান সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। নিউয়র্কের বিভিন্ন মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমও এই উদ্যোগকে তুলে ধরেছে, যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে অস্থায়ী আশ্রয় বা তাঁবু দিয়ে কেবল সমস্যা স্থায়ীভাবে লুকানো যায় না; বরং স্থায়ী গৃহায়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করাই সঠিক সমাধান।
মামদানির এই প্রস্তাবনায় মূল বিষয় হলো, মানবিক সহমর্মিতা এবং কার্যকর নীতি গ্রহণের মাধ্যমে সমাজে স্থায়ী পরিবর্তন আনা। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, “মানুষকে শুধু থাকা দেওয়া নয়, তাদের গৃহায়ন নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়া এবং তাদের জীবনে মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।” সম্প্রতি এক মতামত সংগ্রহে দেখা গেছে, স্থানীয় নাগরিকরা এই প্রকল্পের পক্ষ নিয়ে মন্তব্য করেছেন, যেখানে তারা বলেছেন যে, তাঁবুতে থাকা অস্বস্তিকর, এবং স্থায়ী ঘর পেলে তারা জীবনের নানা ক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারবে। মামদানির মতে, স্থায়ী গৃহায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু গৃহহীনদের নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়, বরং সমাজে সমান সুযোগ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব। এই প্রেক্ষাপটে মামদানির উদ্যোগটি স্থানীয় প্রশাসন, এনজিও, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছে।



