ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা এবং ২০২৫ সালের শান্তিতে Nobel Peace Prize পানকারী Maria Corina Machado শেষ পর্যন্ত পুরস্কার গ্রহণের অনুষ্ঠানে হাজির হবেন না এমন সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে আয়োজকরা। মূলত নিরাপত্তা এবং আইনগত ঝুঁকির কারণে তিনি নিজে যেতে চেয়েছেন না।
10 Dec 2025 | Pic: Collected
গত বছরের আগস্টে দেশীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নির্বাচনী বিতর্কের পর থেকে Machado স্বেচ্ছায় নির্বাসনে রয়েছেন। এর পর থেকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি, এবং তাঁর বর্তমান অবস্থানও অজানা। একদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে দেশে ‘পলাতক’ অভিযোগ রয়েছে অর্থাৎ যদি তিনি দেশে ফেরেন, গ্রেফতারির আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও শুরু থেকেই শঙ্কা ছিল।
আয়োজকরা জানিয়েছেন যেহেতু Machado উপস্থিত থাকবেন না, তাই পুরস্কার গ্রহণ করবেন তাঁর মেয়ে Ana Corina Machado। একই সঙ্গে, মেয়ে Machado-র লেখা ভাষণ পাঠ করবেন পুরস্কার বিতরণীর সময়।
Machado-র দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, পুরস্কার পাওয়া ছিল গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি। যদিও ভয় ছিল, তিনি শান্তিপূর্ণ লড়াই, স্বৈরতন্ত্র থেকে মুক্তি ও ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ফেরানোর জন্য কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা হলে তা অনেকেই স্বাগত জানায়।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় যেখানে Maduro-র সরকারের কঠোর চাপে এবং নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরদারিতে রয়েছেন Machado — তিনি নিজেই নিরাপত্তা বা গ্রেফতারির আশঙ্কায় অনুষ্ঠানে যেতে চাইছেন না। নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউটও জানিয়েছে, তারা তার বর্তমান অবস্থান জানে না। ফলে পুরস্কার গ্রহণের প্রতীকী কাজ করেছেন তার পরিবার।
এই ঘটনা আবার স্মরণ করিয়ে দেয় কখনও কখনও নোবেল পুরস্কার শুধু একটি মর্যাদার চিহ্ন নয়; এটি যাদের জন্য দেওয়া হয়, তার জীবন এবং রাজনৈতিক-আইনগত বাস্তবতার সঙ্গে কতোটা সাংঘর্ষিক হতে পারে। Machado-র জন্য পুরস্কার মানে নিরাপত্তা ঝুঁকি, গার্ডার পরিবর্তন, জীবন-নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অনিশ্চয়তা।
নোবেল কমিটি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের অঙ্গন থেকে Machado-র সাহস ও সংগ্রামকে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও, বাস্তবিকভাবে পুরস্কারের উৎসব ও গৌরব তার জন্য স্বপ্নের থেকেও ঝুঁকি। এখন প্রশ্ন এই গৌরব কি শুধু দৃশ্য কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র-সংগ্রামের জন্য সাহস বাড়াবে?



