গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫-এ, চীনের একটি আদালত ১৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা Bai Tianhui–কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। Bai তখন China Huarong International Holdings–এ জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার এবং অর্থায়নে সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে তিনি এই বিপুল ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন। চীনের আদালত এবং সর্বোচ্চ আদালত রিভিউ–র পর রায়ের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে, এবং মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
10 Dec 2025 | Pic: Collected
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম CCTV’র বরাতে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হয়েছে কারণ তাঁর অপরাধ ছিল ‘অত্যন্ত গুরুতর’ শুধু অর্থহরণই নয়, তার কাজে সমাজ ও রাষ্ট্রের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।আদালত জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সময়ের টেন্ডার ও অর্থায়ন প্রক্রিয়া-তে অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন ও প্রকল্প বরাদ্দের ক্ষেত্রে তার পদদুর্ব্যবহারের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এই রায় চীনের বর্তমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ। গত কিছু বছরে অনেক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ও দণ্ডিত করা হয়েছে। প্রথমেই যারা ধরা পড়েছেন, তারাই — সাবেক মন্ত্রী, ব্যাংক কর্মকর্তা, বড় কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহী।
বাইয়ের মৃত্যুদণ্ড শুধু ব্যক্তিগত সাজা নয়; এটি চীনের প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর এক প্রক্রিয়া হিসেবে ধরা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এর মাধ্যমে গুণি-অগুণি নির্বাহী বা সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে “দুর্নীতির জন্য কোন ছাড় নেই”।
অন্য দিকে, মানবাধিকার ও আইনগত বিশ্লেষকরা এই সাজাকে গুরুত্বসহকারে দেখলেও, তারা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে দণ্ড নিশ্চিত করার আগে বিচার-বিধি, স্বচ্ছতা এবং প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা বজায় থাকতে হবে। কারণ মৃত্যুদণ্ড বিষয়টি মানবাধিকার সংক্রান্ত এবং সঠিক প্রমাণ, ন্যায্য বিচার এবং আপিল-অধিকার সবকিছুই নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
এই ঘটনা শুধু চীনেই নয়; এটি বিশ্বের অনেক দেশকে ভাবিয়ে তুলেছে সরকারি দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পণ–পাওয়া আর্থিক লুটপাটের বিরুদ্ধে কঠোর আইন ও দণ্ড ব্যবস্থার প্রভাবে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো এমন কঠোর রায় দ্রুত ও স্বচ্ছ কি হবে, নাকি রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার লড়াই, বা প্রক্রিয়াগত দুর্বলতায় মানবাধিকার ও ন্যায্য বিচার ঝুঁকির মুখে পড়বে?



