মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক সমাবেশ এবং সাংবাদিকদের সামনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের ঠোঁটের সঙ্গে ‘মেশিনগান’ তুলনা করেছেন, যা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে; পেনসিলভানিয়ার একটি সমাবেশে অর্থনৈতিক সাফল্য ও প্রশাসনের এজেন্ডা তুলে ধরার সময় তিনি হঠাৎ করেই তাঁর বক্তব্য থেকে সরে এসে লেভিটের সৌন্দর্য এবং কৌশলী বক্তব্যের প্রশংসা করতে থাকেন এবং বলেন, “যখন সে টেলিভিশনে যায়, তার সুন্দর মুখ ও সেই ঠোঁট যা থামে না; একটা ছোট মেশিনগানের মতো।” এই মন্তব্যে উপস্থিত জনতা উচ্ছ্বাস দেখালেও সামাজিক মাধ্যমে তা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
11 Dec 2025 | Pic: Collected
ট্রাম্প তার মন্তব্যে বলেন, “আমি প্রতিপক্ষের প্রেস সেক্রেটারির জায়গায় থাকতে চাই না,” এবং একই সঙ্গে লেভিটের কাজের প্রশংসা করেন, যদিও তিনি বিষয়টি ব্যক্তিগত দেখিয়েছেন। এই মন্তব্যের আগে, গত আগস্টেও একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প একই তুলনা করেছিলেন “ওই মুখটাই, ওই মস্তিষ্কটাই, ওই ঠোঁট, যেভাবে নড়ে, যেন মেশিনগানের মতো।”
এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ট্রাম্প তার প্রেস সেক্রেটারির উল্লেখযোগ্য দ্রুত বক্তব্য প্রদানের ধরনকে মেশিনগানের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং বলেছেন সে “মিডিয়ায় আধিপত্য দেখায়” এবং “সেরা প্রেস সেক্রেটারি” হিসাবে কাজ করছে। ([turn0news2]) লেভিট, ২৮ বছর বয়সে, আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে কমবয়সী হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি, এবং তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে মিডিয়া ও জনসাধারণের সামনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
ক্যারোলিন লেভিট মূলত নিউজম্যাক্স ও বিভিন্ন মিডিয়া অনুষ্ঠানে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে প্রেস রিপোর্টারদের সঙ্গে যোগাযোগে অংশ নেন এবং ট্রাম্পও হন লোকসমাগমে ও অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি সম্পর্কে প্রশংসা করেছেন। এই মন্তব্যগুলি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, অনেকে বলেন এটি অপ্রাসঙ্গিক এবং লেভিটকে তাঁর পেশাগত ভূমিকায় নিচিয়ে এনে শারীরিকভাবে মন্তব্য করা হয়েছে, আবার অনেকে ট্রাম্পের পক্ষেই বলেছেন তিনি লেভিটকে “একজন শক্তিশালী বক্তা” হিসেবে দেখেন।
লেভিট আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সহকারী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং পরে তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে পুনরায় নিয়োগ পান, যা তাকে মার্কিন প্রশাসনের মিডিয়া মুখ হিসাবে দৃঢ় অবস্থান দিয়েছে এবং তাকে রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যে একটি প্রভাবশালী কমিউনিকেশন ভূমিকা প্রদান করেছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুধু তার ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছে না — বরং জনসাধারণ, বিরোধী দল ও মিডিয়ায় বড় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, যেখানে অনেকেই বিষয়টিকে লিঙ্গ-ভিত্তিক মন্তব্য বা উপযুক্ত নয় এমন আচরণ হিসেবে দেখেছেন, এবং অনেকে এটিকে ট্রাম্পের নিজস্ব বক্তব্যধারার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
এই ঘটনা আবারও তুলে ধরে যে, রাজনৈতিক নেতারা জনসমক্ষে মন্তব্য করার সময় শিরোনাম-উপযোগী বা বিতর্কিত ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কতটা সতর্ক বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, এবং নেতাদের মন্তব্যগুলো কখনো কখনো পেশাদারী বিবেচনার বাইরে চলে যেতে পারে — যা সাধারণ দর্শক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিতর্ক ও আলোচনা জন্ম দেয়।



