যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিসেম্বর ২০২৫-এ হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এক উদ্বেগজনক সতর্কবার্তা দিয়েছেন — তিনি বলেছেন, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যদি থামানো না যায়, তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
এই মন্তব্যটি এসেছে সেই ভঙ্গিমায় যখন দীর্ঘ চার বছরের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগের ব্যর্থতার কারণে বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। যুদ্ধের স্থিতিশীলতা, মানবিক বিপর্যয়, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ এবং সামরিক উত্তেজনা সব মিলিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
12 Dec 2025 | Pic: Collected
ট্রাম্প বলেন, গত এক মাসেই প্রায় ২৫,০০০ লোক নিহত হয়েছে — যাদের অধিকাংশই সৈন্য, তবে কিছু নিহত হয়েছে বোমাবর্ষণ ও আগ্রাসনের কারণে সাধারণ অঞ্চলেও। তিনি এই সংখ্যা তুলে ধরে বলেছেন, “আমি চাই দমনটি থামুক, কিন্তু পরিস্থিতি থামছে না।”
ট্রাম্পের ভাষ্যে, এই রক্তক্ষয় এভাবে চললে যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রণ করার বাইরে চলে যেতে পারে, এবং সে ক্ষেত্রে এটি বিশ্বব্যাপী রূপ নিতে পারে। তিনি বলেছেন, “এ ধরনের ঘটনা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, এবং আমরা চাই না তা হোক।”
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে বলেছেন যে প্রেসিডেন্ট “দু’পক্ষেরই ধীরগতির ও কার্যহীন আলোচনা দেখে অত্যন্ত হতাশ” এবং শুধুমাত্র আলোচনার জন্য আলোচনায় আর সময় নষ্ট করতে চান না। তাঁর ভাষায়, “এবার কার্যকর পদক্ষেপ দরকার, শুধুই বৈঠক নয়।”
১৯৭০-এর দশক থেকে শুরু করে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি-তে রাশিয়ার ব্যাপক আক্রমণের পর এই সংঘাত স্থায়ী ও প্রসারিত হয়েছে। যুদ্ধের ফলে ইউক্রেনীয় সৈন্য, রাশিয়ান সৈন্য ও অসংখ্য সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে, বসতবাড়ি ভেঙে গেছে, শহর ধ্বংস হয়েছে এবং এক বিশাল মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক সংখ্যার ভিন্ন হলেও বর্তমানে বহু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম নির্দেশ করে হাজার হাজারের মানবিক ও সামরিক মৃত্যু ঘটেছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি নয়, বরং বিশ্ব রাজনৈতিক মানচিত্রে যৌথ উদ্বেগও প্রতিফলিত করছে। যুদ্ধের দীর্ঘায়ু এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন বিষন্নতা তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের সতর্কবার্তার সাথে সাথে ন্যাটো (NATO) ও ইউরোপীয় নেতারাও যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ন্যাটোর কিছু নেতারা প্রকাশ্যে বলেছেন যে তারা রাশিয়ার সম্ভাব্য ইউরোপীয় প্রভাব বিস্তার ও সামরিক হুমকি নিয়ে আরও কঠোর প্রস্তুতির কথা ভাবছেন এবং শীতল যুদ্ধের পর আবার উত্তেজনা দেখা দিতে পারে এমন ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করেছেন।
এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) সদস্য দেশগুলো ফেডারাল নীতি ও কূটনৈতিক উদ্যোগে জোর দিচ্ছে যাতে রাশিয়ার উপরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বজায় থাকে এবং ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানো হয়, কিন্তু এগুলো এখনো স্থায়ী শান্তি আনতে বড় ভূমিকা রাখতে পারেনি।
ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তা মাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ধ্যান ধারণার ওপর এক বৃহৎ মনোযোগ কাড়ছে। তিনি শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত থামানোর আহ্বানই করেননি, বরং বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধর দেশগুলোর কাছে দাবিও তুলেছেন যাতে তারা শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাস্তব পদক্ষেপ নেয়।
ট্রাম্পের বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া ছড়াচ্ছে — যেমন কিছু বিশ্লেষক বলেন যে যুদ্ধের দীর্ঘায়ু তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা কমিয়ে শান্তি আলোচনাকে শক্তিশালী করা উচিত, আবার কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন বিশ্বকে অবশ্যই নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমাধানের আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর আর্থিক, মানবিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
- অর্থনৈতিক শৃঙ্খল বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।
- শক্তি ও খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।
- সামরিক জোট ন্যাটো-র গুরুত্ব আবার একবার প্রাধান্য পেয়েছে।
- শনাক্ত যুদ্ধবিরতি আলোচনায় আন্তর্জাতিক সমঝোতা এখনও দূরবর্তী লক্ষ্য রয়ে গেছে।
- বিশেষজ্ঞরা বলেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ এবং বৈদেশিক জোটের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাবে, যা কেবল ইউরোপ নয়, বহু অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ সংঘাতগুলোর একটি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সতর্কবার্তা শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটি বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য একটি হাই-অ্যালার্ট সংকেত। যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, কূটনৈতিক উদ্যোগকে শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির জন্য এখন সময় এসেছে।



