পাকিস্তানের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার‑সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI)-এর সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) ফয়েজ হামিদকে সামরিক আদালত ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। সামরিক আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, হামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রকে ক্ষতিসাধনের মতো চারটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। রায় ১১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ঘোষণা করা হয়। হামিদ আইনিভাবে আপিল করার অধিকার রাখেন। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ISI প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেই সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
12 Dec 2025 | Pic: Collected
২০২৪ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ ও সামরিক তদন্তের পর তাকে বিচার করা হয়। সামরিক আদালত জানিয়েছে যে হামিদকে প্রতিরক্ষা ও আইনি সহায়তার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক প্রভাব খাটিয়েছেন এবং সরকারি সম্পদ ও ক্ষমতা নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স, এপি নিউজ, ডন এবং ট্রিবিউন জানিয়েছে যে, এটি পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক ISI প্রধানকে সামরিক আদালতে সাজা দেওয়ার ঘটনা।
মামলার এই রায় পাকিস্তানের সামরিক-রাজনৈতিক কাঠামোতে নতুন বিতর্ক ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানিরা বলছেন যে এটি আইনশৃঙ্খলার বিজয়, আবার অনেকে এটিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ ও ক্ষমতার সংঘর্ষ হিসেবে দেখছেন। হামিদের বিরুদ্ধে অন্য একটি তদন্ত চলছে ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খানপন্থী বিক্ষোভ এবং সরকারি স্থাপনা হামলার ঘটনার কারণে। সামরিক আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইনি এবং স্বচ্ছ হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রায় পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে এবং আন্তর্জাতিকভাবে এটি জবাবদিহিতার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের সরকার ও নাগরিক সমাজে রায়ের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ এটিকে আইনের শাসনের উদাহরণ মনে করছেন আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি কাঠামোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলাফল মনে করছেন। সামরিক আদালত জানিয়েছে যে হামিদকে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা সুযোগসহ বিচার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি প্রক্রিয়া চলেছে। রায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা কাঠামো ও বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এই রায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজিরমূলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষকরা মনোযোগসহ পর্যবেক্ষণ করছেন।



