12 Dec 2025 | Pic: Collected
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সিনেট বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়‑সংক্রান্ত গুরুতর সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ সিনেটের উচ্চকক্ষে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষের ভিন্ন প্রস্তাব যথেষ্ট ভোট না পাওয়ায় পাস হয়নি এবং এর ফলে বিষয়টি আপাতত ঝুলে আছে যা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (ACA)‑এর অধীনে চালু থাকা ট্যাক্স ক্রেডিট বা স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকি ও ব্যয়‑সহায়তার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা ACA‑এর অধীনে প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিটের মেয়াদ পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিলেন যাতে সাধারণ নাগরিকরা স্বাস্থ্যবিমার মাসিক কিস্তি কম পরিশোধ করতে পারে, কিন্তু এটি প্রয়োজনীয় ৬০টি ভোটের পরিবর্তে ৫১‑৪৮ ভোট পেয়ে পাস হয়নি, অন্যদিকে রিপাবলিকানদের প্রস্তাব ছিল বর্তমান ভর্তুকি পুরোপুরি বন্ধ করে সেই লক্ষ্যে হেলথ সেভিংস অ্যাকাউন্ট (HSA)‑তে সরাসরি অর্থ প্রদান করা যাতে আয়দরিদ্র্যসীমার ৭০০ শতাংশের কম আয় থাকা নাগরিকরা ১৮‑৪৯ বছর বয়সে ১,০০০ ডলার ও ৫০‑৬৪ বছর বয়সে ১,৫০০ ডলার করে বেনিফিট পায়, কিন্তু সেটিও একইভাবে ৫১‑৪৮ ভোটে ব্যর্থ হয়ে গেলো।
সিনেটের এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে অনেক নাগরিকের জন্য ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যবিমা খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে কারণ ট্যাক্স ক্রেডিট বন্ধ হলে মাসিক প্রিমিয়াম স্বাস্থ্যবিমা খরচ দুই থেকে তিন গুণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে যা সাধারণ মানুষের জীবনে আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং এই নিরাশাজনক পরিস্থিতিতে সিনেটে পক্ষগুলো একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছে, এতে স্বাস্থ্য‑বিমা ও স্বাস্থ্যসম্পর্কিত সরকারি ব্যয়ের ভবিষ্যৎ, বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সেবা অ্যাক্সেসে প্রভাব নিয়ে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে এই ব্যয়‑সহায়তা ও প্রাত্যহিক চিকিৎসার খরচ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও সংশোধিত বাজেট বা নীতিগত পরিবর্তন ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে, কারণ বর্তমানে অনেক পরিবার স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করলে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয়ে পড়ছে এবং এতে সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি স্বাস্থ্য সেবার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন প্রশ্নও উঠছে, যদিও সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা ভবিষ্যতে এই বিষয়ে পুনঃআলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান আনার চেষ্টা করবেন বলে অনুরোধ করছেন, তবে আপাতত সিনেটের ব্যর্থতার কারণে স্বাস্থ্য বীমার খরচ বাড়ার ঝুঁকি সোজাসুজি নাগরিকদের উপর চাপিয়ে দিয়েই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।



