মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক-উ জেনারেল হাসপাতাল-এ সামরিক বিমান বা বোমা হামলায় কমপক্ষে ৩৪ জন নিরীহ রোগী ও চিকিৎসক নিহত এবং প্রায় ৭০-৮০ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘনের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর ২০২৫) এক বিবৃতিতে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবার ও আহতদের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে এবং একইসঙ্গে রোহিঙ্গা ও রাখাইনসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সহিংসতা থেকে রক্ষা করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
13 Dec 2025 | Pic: Collected
পাকিস্তানের একটি বিমান হামলার মতো এ ঘটনা নিছক অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ নয় বরং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনও বলে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা করেছে এবং নীতিগতভাবে বেসামরিক নাগরিক ও হাসপাতালসহ বেসামরিক স্থাপনা কখনোই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার জোর দিয়ে জানিয়েছে যে বৈষম্য ছাড়াই সকল বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোকে সুরক্ষা দেওয়া উচিত এবং সহিংসতা দ্রুত শেষ করা উচিত, আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিগুলো মেনে চলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
যদিও মিয়ানমারের জান্তা সরকার এ ধরনের হামলার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি, অনেক আন্তর্জাতিক সংবাদ সূত্রে বলা হচ্ছে যে গত ১০ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে রাখাইনের ম্রাউক-উ শহরের ওই হাসপাতালে সামরিক জান্তার বিমান হামলায় বোমাবর্ষণ করা হয় এবং এতে রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসায় আসা পরিবাররা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, এতে নিহতের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ৩১-৩৪ জনের মধ্যে বলা হচ্ছে এবং আহতের সংখ্যা ৭০ ও তার বেশি হয়েছে—এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গ্রুপগুলোর দৃষ্টিতেও যুদ্ধাপরাধ বা মানবিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে এবং অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন যে হাসপাতালকে লক্ষ্যবস্তু করা একটি ঘৃণ্য কর্ম যা নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার নীতির বিপরীতে যায়।
বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে রোহিঙ্গা ও রাখাইনের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীসহ সকলকে সহিংসতার বিষয় থেকে রক্ষা করতে হবে এবং বৈষম্যহীন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনার ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ও সকল পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ কামনা করেছে, এই ঘটনার পেছনে সামরিক ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘাতের প্রেক্ষাপট জড়িত থাকলেও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হওয়া হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের নিয়মভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং বাংলাদেশ ঘোষণা করেছে যে এই ধরনের সহিংসতা ও নাগরিকদের উপর অতর্কিত হামলা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত এবং মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা জরুরি।
ঢাকা এই ঘটনার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ও সহিংসতা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়ান দেশগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়ারও প্রতি আকাশ প্রদান করেছে, বিশেষত যখন এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক বিরোধ ও সংঘাত চলেছে, তখন এই ধরনের হামলা মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা আরও বাড়াচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে বেসামরিকদের সুরক্ষার অনুরোধ জোরালোভাবে করা হয়েছে।



