অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত বন্ডি বিচে রবিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ইহুদিদের আটদিন ব্যাপী ঐতিহাসিক হানুক্কাহ উৎসবের সময় ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যেখানে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন, পুলিশ ও স্থানীয় জরুরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন; এই ঘটনা প্রায় তিরিশ বছরে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার রূপ নিয়েছে এবং তা যে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ছিল তা তদন্তাধীন অবস্থায় নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে দুইজন বন্দুকধারী পিতা ও পুত্র হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে — ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আক্রাম ও তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে নাহীদি আক্রাম; পুলিশের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সাজিদ ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং দ্বিতীয় হামলাকারী নাহীদি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পুলিশ গার্ডের অধীনে চিকিৎসাধীন আছে।

15 Dec 2025 | Pic: Collected
পুলিশ কমিশনার মাল ল্যানিয়ন জানিয়েছেন, এই হামলাকে পুলিশ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হামলার ছাঁচে ফেলা হয়েছে, এবং তারা ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি অস্ত্র ও চাপিত বিস্ফোরক যন্ত্রপাতি উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই স্থানে প্রায় হাজারের মতো মানুষ হানুক্কাহ উদযাপনে উপস্থিত ছিলেন এবং বন্দুকধারীরা অসংখ্য রাউন্ড গুলি চালায়, ফলে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে সাগরে নেমে বা আশপাশের ভবনে লুকিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন।
এই হামলার সময় বিভিন্ন বয়সী মানুষ নিহত হন; যথা একজন হলোকাসট বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, একজন ১০ বছর বয়সী শিশু, একজন রাব্বি (ইহুদি ধর্মীয় নেতা) ও বহু সাধারণ মানুষ; আহতদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা সহ অনেকে গুরুতর আহত, এবং হাসপাতালে চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বন্দুকধারীরা কৃষ্ণ পোশাক পরে সৈকতের ভিড়ের দিকে গুলি চালাচ্ছিলেন, আর এই আতংকজাগানো মুহূর্তে এক জন সাধারণ মানুষ — পরিচিতি অনুযায়ী ৪৩ বছর বয়সী আহমেদ আল আহমেদ নামে একজন — সাহসিকতার পরিচয় দেন; তিনি প্রথমে গুলির আওয়াজের মধ্যে গাড়ির পেছনে লুকিয়ে থাকার পর হঠাৎ করে এগিয়ে আসেন এবং বন্দুকধারীর কাছে থেকেই তাঁর অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেন, যা অনেক মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে; এই সময় অহমেদও দু’বার গুলিবিদ্ধ হন এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং উন্নতি করছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই হামলাকে নিন্দা জানিয়ে এটিকে “অশুভ ইহুদিবিদ্বেষী তৎপরতা” বলে অভিহিত করেছেন এবং নেতৃস্থানীয় রাজনীতি এবং সার্বভৌম সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হামলার পর জাতীয় স্তরে নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে যাতে এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং দেশব্যাপী সহিংসতা রোধ করা যায়।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও এই ঘটনার ব্যাপক প্রতিবেদন করেছে এবং বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক নেতারা এতে শোক প্রকাশ করেছেন। অনেক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনই অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে একজোট প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
এই হামলা অস্ট্রেলিয়ার কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন থাকা সত্ত্বেও ঘটে, যা ১৯৯৬ সালের পোর্ট আর্থার হত্যাকাণ্ডের পর চালু করা হয়েছিল — সেই ঘটনায় ছিল ৩৫ জন নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সবচেয়ে কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন গ্রহণের প্রেক্ষাপট; এর ফলে বিবেচনা এবং সমালোচনা হচ্ছে যে কীভাবে এত কঠিন নিয়ম থাকা সত্ত্বেও এত প্রাণহানি ঘটল তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় জনগণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ, শোক ও সমবেদনা ছড়িয়ে পড়ছে, যেখানে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবিতে নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, আর হামলার শিকার পরিবার ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠছে। অস্ট্রেলিয়া তথা সিডনি শহর এখন এই ভয়াবহ ঘটনার প্রভাব থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে, যেখানে শোক ও হতাশার ছায়া বর্তমানে পুরো সম্প্রদায়ের মনকে ভারাক্রান্ত করছে এবং শান্তি, সহনশীলতা ও নিরাপত্তার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সবাই একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।




