ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং তার সহযোগী মোটরবাইক চালক আলমগীর হোসেন বর্তমানে ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি শহরে অবস্থান করছেন বলে নতুন তথ্য জানা গেছে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পরিচিত আল-জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের আজ এক ফেসবুক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন; সায়ের জানিয়েছেন যে মূল হামলাকারী ফয়সাল মাসুদ হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার পর তাকে একটি সিম নম্বর প্রদান করে দিয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব, এবং ওই নম্বরটি ব্যবহার করে গত রাতে ফয়সাল নিজ অবস্থান বোঝাতে বিভিন্ন নম্বরে গুয়াহাটিতে তোলা একটি সেলফি পাঠায়, যা গোয়েন্দা সূত্রে সংগ্রহ করা হয়েছে ও সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

15 Dec 2025 | Pic: Collected
জানা গেছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার এক মোটরসাইকেলযোগে ঢাকা পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করেন, এতে হাদি গুরুতর আহত হন এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও পরে অ্যাভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটির মামলা সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা হয়েছে; এজাহারে ফয়সাল করিমসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এবং হত্যাচেষ্টা ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার এর অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশের ইন্সপেক্টর ইয়াসিন মিয়াকে।
সায়েরের পোস্টে বলা হয়েছে যে ফয়সাল ও তার সহযোগী ভারতে ঢুকার পর তাদের পিএস বিপ্লবকে নিয়েই ফয়সালকে একটি ভারতীয় সিম নম্বর দেওয়া হয়, এবং ওই নম্বর ব্যবহার করে সে যোগাযোগ রাখছে; এই তথ্য গোয়েন্দা পর্যায়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ ফয়সাল নিজের অবস্থান বোঝাতে ওই নম্বর থেকে গত রাতে স্বপ্রিয়স্থান থেকে বিভিন্ন নম্বরে সেলফি পাঠিয়েছে, যেটি প্রতিবেশী ভারতের আসাম-চিহ্নিত গুয়াহাটিতে তোলা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এটি ফয়সাল কারারক্ষীদের সহায়তা বা স্থানীয় সহযোগী সংগঠনের সংযোগ থাকতে পারে, এবং এর ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ফয়সাল ও আলমগীরের অবস্থান ও গতানুগতিক গতিশীলতা দ্রুত শনাক্ত করতে কাজ করছে।
এই নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে শঙ্কা এবং উদ্বেগের চিহ্ন দেখা গেছে, যেখানে ফয়সাল ও আলমগীরের ভারতের অবস্থান এবং সম্ভাব্য সহায়তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে; বিশেষত স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফয়সালকে সাহায্য করার ঘটনা যদি সত্য হয়, তাহলে এটি পাশবর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পরিকল্পিত প্রকৃতির একটি বড় দিক প্রকাশ করে এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজনৈতিক কর্মীরা বলেছেন, হত্যাচেষ্টা মামলা এবং সন্দেহভাজনদের তথ্য অনুসন্ধানে এখন আন্তর্জাতিক সমন্বয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, হাদির পরিবার, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলি ইতোমধ্যেই এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে মূল হন্তাকারীসহ সকল জড়িতকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছে; তারা বলেছেন যে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা হাদির মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী হতে হবে, বিশেষত নির্বাচনী পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে হাদি এখনও গুরুতর আহত অবস্থায় অ্যাভারকেয়ার হাসপাতালের ICU-তে চিকিৎসাধীন, এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে, যেমন সিঙ্গাপুরে পাঠানোর প্রস্তুতি আগেই নেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে নির্বাচনি প্রচারণা ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি ও ক্ষমতা-অভিযুক্ত বিরোধীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে; পাশাপাশি দেশ ও প্রেমের প্রতি আস্থা, আইনশৃঙ্খলা সংস্থার দক্ষতা এবং সমন্বিত আন্তর্জাতিক তৎপরতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ আহ্বান করেছে যাতে হিংসা, সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা যায়, এবং সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পেছনের আসল সহায়তা-যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত সহায়তা-যোগ নিয়ে তদন্ত এখনও চলমান, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে সীমান্ত পেরিয়ে সংঘটিত সহিংস ঘটনার প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে কাজ করছে; পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন যে এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং এর পেছনের হত্যাচেষ্টা ও সহায়তা-সংশ্লিষ্ট চক্রের রহস্য উদঘাটিত হবে।




