মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ইমিগ্রেশন বিভাগের বড় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও অভিবাসন নীতি, এবং মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থান ও আইনগত অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন অংশে *সংগঠিত অভিযান পরিচালনা করে মোট *৯০ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে, এবং তাদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন, যারা বৈধ কর্ম ভিসা না থাকায় বা বৈধকরণের শর্ত পূরণ না করায় এই অবস্থায় ধরা পড়েছেন।

17 Dec 2025 | Pic: Collected
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, এবং এছাড়াও অন্যান্য দেশ যেমন মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, নেপাল, চার্লি দেশগুলোর নাগরিকও রয়েছে; তাঁরা দেশে বৈধভাবে থাকার উপযুক্ত কাগজপত্র না থাকায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন প্রধান কর্মকর্তা ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে বলেছেন, অপরাধ ও অবৈধ অবস্থানের বিরুদ্ধে দেশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছে এবং যারা বৈধ নথি ছাড়া দেশে অবস্থান করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে শ্রম বাজারে আইনগত কর্মীর নিরাপত্তা ও স্থানীয় নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা যায়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অনেকে কাঠামোগত কাজে, নির্মাণ শিল্পে এবং বিভিন্ন সেবা খাতে কর্মরত ছিলেন, যেখানে মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে চাকরির সুযোগ না থাকলেও অধিক মজুরির লোভে অনেকে সেখানে অবস্থান করছিলেন। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা জানান, মালয়েশিয়ার অভিবাসন নীতিতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দেশীয় শ্রম বাজারে অবস্থান ও কর্মসংস্থান সম্পূর্ণ অপরাধ, এবং এটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তাই এ ধরনের অভিযান সময়ে সময়ে পরিচালিত হয়।
এই অভিযানটি মালয়েশিয়ার অভিবাসন নীতি সম্প্রসারণ ও কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এসেছে, যেখানে দেশটি বৈধ অভিবাসী কর্মী নিয়োগ, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিক সুরক্ষার দিকে জোর দিচ্ছে এবং অবৈধ কর্মীদের শনাক্তকরনে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম জোরদার করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গ্রেফতার হওয়া অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে যে সকল বাংলাদেশি রয়েছেন, তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশ হাইকমিশন কুয়ালালামপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বাংলাদেশি অনেকে গৃহ সহায়তা কর্মী, নির্মাণ শ্রমিক ও সার্ভিস সেক্টরের কাজে যুক্ত ছিলেন, এবং এই অবস্থায় তাদের মালয়েশিয়ায় অবৈধ অবস্থান করার কারণ বিভিন্ন; কেউ বৈধ ভিসার মেয়াদ যাবতীয় কারণে ছাড়িয়ে গেছেন, কেউ আবার ভুল তথ্য দিয়ে কর্মসংস্থান খুঁজে নিয়েছেন—এসব কারণেই অভিযানকালে তাদের আটক করা হয়েছে।
আইনজীবী ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, মালয়েশিয়ার এই অভিযান শুধু একটি আইনি কার্যক্রম নয় বরং এটি শ্রম বাজার ও নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে অবৈধ অভিবাসীদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা, শ্রমিক অধিকার, ও স্থানীয় নাগরিকদের চাকরির সুযোগ—এসব বিষয়কে ঠিক রাখতে আইনগত ব্যবস্থা জরুরি। তারা মন্তব্য করেছেন, যারা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে কাজ করছেন, তাদের সরাসরি কোনো ক্ষতি করতে হবে না, কিন্তু যে সকল কর্মী ডকুমেন্ট ছাড়া অবস্থান করছেন বা ভিসার মেয়াদ শেষ হলে তাদের ভয় নাই, তারা নিজ নিজ দেশের আইনজীবীর সাথে আলোচনা করে নথি নিয়মিত করবে এবং যথাযথভাবে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবস্থান বাড়াবে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযান মালয়েশিয়ার অভিবাসন নীতির সঠিক বাস্তবায়ন এবং অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণের একটি প্রয়োজনীয় কার্যক্রম, যাতে দেশীয় ও বৈধ অভিবাসীদের শ্রম বাজারে অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। তারা আরও বলেছেন, প্রতিটি অভিবাসীর নথি যাচাই করা হয়েছে এবং উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে তাদের অবস্থান স্থিতিশীল করার সুযোগ বিজয়ী হলে দেশের আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই অভিযান সামাজিক মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, যেখানে বিভিন্ন নাগরিক মালয়েশিয়ার কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি ও শ্রম বাজার নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ও বিপক্ষে মতামত প্রকাশ করেছেন। কেউ বলেছেন, আইনের শাসন ও নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে মালয়েশিয়া এই পদক্ষেপ নিচ্ছে, আবার অনেকে বলেছেন, অবৈধ অভিবাসন অনেকসময় জটিল ও মানবিক কারণেও ঘটে থাকে, তাই এটি মানবিক ও সমন্বিত দৃষ্টিতে সমাধান করা উচিত।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসনী নীতি ও অভিযান ভবিষ্যতের শ্রম বাজার নিয়ন্ত্রণ, বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীদের অবস্থান ও নিরাপত্তা বিষয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং এই ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অভিবাসনের নিয়মকানুন ও মানবিক দিকগুলোর ওপর নতুন আলোচনাও শুরু হয়েছে।




