যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এবং তিনি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন—এই ঘোষণা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

19 Dec 2025 | Pic: Collected
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫) মার্কিন সিনেটে এই নিষ্কাষিত সিদ্ধান্ত অনুমোদনের পর নিজেই ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম লিঙ্কডইনে একটি পোস্টে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের অনুমোদন পেয়ে আমি সম্মানিত, এবং বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।” তাঁর এই মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে ইতোমধ্যেই আগ্রহ সৃষ্টি করেছে, বিশেষত ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন একজন অভিজ্ঞ সিনিয়র ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা, এবং তাঁর কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে ঢাকা তাঁর আগে-একা কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে; তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকা-স্থিত মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, এবং বাংলাদেশে ব্যাপক পরিমাণ কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এই অভিজ্ঞতার কারণে তাঁকে আবারও বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিশেবে নিয়োগ করার প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে সমর্থন পেয়েছে।
ক্রিস্টেনসেনের আগে সিনেটে মনোনয়ন শুনানিতে তিনি বলেন, *“আমার ফরেন সার্ভিস জীবনে বাংলাদেশ সম্পর্কে ২০ বছরেরও বেশি কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, এবং এই দায়িত্ব গ্রহণ করে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব দেওয়া এবং *যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেয়ার সুযোগ আমি গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করব।” এমন মন্তব্য বাণিজ্য, সমুদ্র নিরাপত্তা, অংশীদারিত্ব, এবং ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ককে আরও জোরদার করার দিকেও ইঙ্গিত দেয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসে দীর্ঘদিন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক পোস্টে দায়িত্ব পালন করেছেন; ঢাকা-তে তাঁর পূর্ববর্তী দায়িত্ব ছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক সম্পর্ক মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত ও দক্ষ বলে বিবেচিত হন, যা তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যোগ্য করে তোলে।
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুরক্ষা সহযোগিতা ও জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে। এই পদের জন্য সিনেটের অনুমোদন প্রাপ্ত হওয়া মানে হলো মার্কিন প্রশাসন ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশের পরিপেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে স্থাপন করার সিদ্ধান্তে স্থির, এবং এখন তিনি যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্রিস্টেনসেনের আসা ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ককে নতুন মাত্রা ও গতিশীলতা দেবে, বিশেষত সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো—যেমন বাণিজ্য আলোচনায় নতুন সুযোগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা, ও জনগণ-সম্পর্কীয় কার্যক্রম—এগুলোতে নতুন করে কূটনৈতিক সমন্বয় তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।




