যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫) থেকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জেফরি এপস্টেইন মামলার সংশ্লিষ্ট নথি ও ছবি (Epstein Files) প্রকাশ শুরু করেছে, যা কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের তদন্ত-সংক্রান্ত ডকুমেন্ট ও প্রমাণাদি, ফটোগ্রাফ ও অন্যান্য গোপন তথ্যসহ বড় পরিমাণ নথি দিয়ে গঠিত। এ নথিসমূহ Epstein Files Transparency Act-এর আওতায় প্রকাশ করা হচ্ছে, একটি সম্প্রতি পাস হওয়া আইন, যার ফলে সরকারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ফাইলগুলো প্রকাশ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে এতে অনেক পৃষ্ঠা এখনও গোপন বা কালো কালি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে এবং বহু নথি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়নি, যা নতুনভাবে *রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

20 Dec 2025 | Pic: Collected
এই ‘এপস্টেইন ফাইল’ এর প্রকাশের দাবি বহু বছর ধরে মানষিক চাপ ও জনসাধারণের চাপের অংশ হয়, বিশেষত ২০১৯-এ এপস্টেইনের জেলবন্দি অবস্থায় মৃত্যুর পর তদন্তের বিষয়গুলো আরেকবার তীব্র আলোচনায় আসে। ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (DOJ) এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত নথিতে রয়েছে হাজার হাজার পাতা ফটোগ্রাফ, তদন্ত প্রতিবেদন, কল লগ, সাক্ষাৎকার ট্রান্সক্রিপ্ট, এবং বিভিন্ন অনুসন্ধান-সংক্রান্ত ডকুমেন্টস, যেখানে দেখা যাচ্ছে এপস্টেইন ও তাঁর সহযোগী গ্লিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলের সাথে বিভিন্ন নামী-প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের ছবি ও সূত্রাবলী। তবে এসব নথিতে অনেকের মুখোশ বা পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে যাতে আক্রমণ বা নিরাপত্তা ঝুঁকি না তৈরি হয় বলে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন।
ফাঁস হওয়া নথি ও ছবি: কী অন্তর্ভুক্ত?
প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বিভিন্ন ফটোগ্রাফ, যেখানে দেখা গেছে কুখ্যাত এপস্টেইন, গ্লিস্লেইন ম্যাক্সওয়েল ও অন্যান্য পরিচিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন সেটিং-এ উপস্থিত ছবি, যেমন পুল, পার্টি, বিমান, বাসা ইত্যাদি।
- কিছু ছবিতে বিল ক্লিনটন, মিক জাগার, মাইকেল জ্যাকসন, রিচার্ড ব্র্যানসন, কেভিন স্পেসিসহ বহু নামী-জনপ্রিয় ব্যক্তিকে দেখা গেছে, যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ সম্বলিত নয় মাত্র ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
- একটি ছবিতে আন্দ্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর (প্রিন্স অ্যান্ড্রু)-কে দেখা যায় গ্লিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে বসে থাকা অবস্থায়, যদিও ছবির বেশিরভাগ অংশে অন্যান্য নারীদের পরিচয় গোপন রয়েছে।
- নথিতে সেই “ললিতা এক্সপ্রেস” নামে পরিচিত এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমান, ম্যানহাটনের টাউনহাউসের অভ্যন্তরীণ ছবি ও সাক্ষাৎকারের কিছু টেক্সটও অন্তর্ভুক্ত আছে।
তবে ছbefযুক্ত সংজ্ঞাবিহীন বা বিচারিকভাবে সংবেদনশীল তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি, যেমন ১,২০০ জনের বেশি শিকার ব্যক্তির পরিচয় ও ব্যক্তিগত বিবরণ, যা নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার স্বার্থে ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস কর্তৃক মুছে ফেলা বা ব্ল্যাক আউট করা হয়েছে।
আইন, প্রকাশ ও প্রতিক্রিয়া
এই নথি প্রকাশের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে Epstein Files Transparency Act, যা নভেম্বর ২০২৫-এ পাস হয় এবং সরকারের কাছে সব “অক্লাসিফায়েড” নথি প্রকাশের নির্দেশ দেয় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে। তবে কিছু নথি এখনও আটকে আছে কারণ তা চলমান তদন্তে জড়িত বা শিকারদের পরিচয় ফাঁস করবে, এমন কারণে।
নথি প্রকাশ নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংসদ স্তরেও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে কয়েকজন সিনেট সদস্য ও প্রতিনিধি বলেন যে ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস পুরো তথ্য প্রকাশ করেনি এবং আইন মানা হয়নি, এবং তারা আরও সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবি তুলেছেন।
এই ইস্যুতে হোয়াইট হাউজ উল্লেখ করেছে যে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ইতিহাসের সবচেয়ে স্বচ্ছ কাজ, তবে *অনেকে অভিযোগ করেন এটি অনেক তথ্য গোপন রাখা হয়েছে এবং তাতে “গোপন শীর্ষস্তরের তথ্য” ভয়াবহভাবে তারকাদের থেকে রক্ষা করা হচ্ছে — এমন কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষকও আছে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
এফাইল প্রকাশের ফলে আন্তর্জাতিক ও মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এই নথিতে বহু প্রবীণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বিনোদন খাতে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ছবি অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও “অপরাধের প্রমাণ” হিসেবে কিছু নেই। তবে প্রকাশ উদ্ভাসিত করেছে তার বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব, বিশেষ করে যৌন ব্যবসা, মানব পাচার ও ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সংযোগ সম্পর্কিত পুরনো বিতর্ক ফের উত্তাল হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই নথি প্রকাশ সংরক্ষণে অগ্রাধিকার, নির্দ্বিধায় তথ্যপ্রাপ্তি, এবং দুর্নীতি-উন্মুক্তিকরণে যুক্তরাষ্ট্রে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে, যেখানে মানুষের জন্য দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার দাবি আরও জোরদার হতে পারে। বিভিন্ন মিডিয়া, নাগরিক অধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো এটি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করছে, এবং মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই কেলেঙ্কারি সম্পর্কিত *বার্তা ও বাস্তব তথ্যের অপেক্ষায় ছিল।
এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: সংক্ষিপ্ত পটভূমি
জেফরি এপস্টেইন একজন ছদ্মনামে প্রভাবশালী ফিনান্সিয়াল ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যিনি ২০০৮ সালে যুবক-যুবতী ও শিশুদের যৌন-দাসী হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। পরে *২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ধরাপড়া ও ফেডারাল তদন্তের পর তিনি নিউ ইয়র্কে একটি ফেডারাল মামলায় কারাগারে ছিলেন এবং সেখানেই আত্মহত্যায় মৃত্যুবরণ করেন।
তার সহযোগী গ্লিস্লেইন ম্যাক্সওয়েল ২০২১ সালে যৌন পাচার সহায়তাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হন এবং দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ভোগ করছেন, এবং তাঁর সম্পর্ক ও নথিগুলোর অনেকটাই এই প্রকাশিত ফাইলের অংশ বা বিষয়বস্তুও।
এখনো সরকারের পক্ষ প্রাথমিকভাবে আরও ডকুমেন্ট প্রকাশের পরিকল্পনা করছে, এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও নথি, ছবি এবং প্রমাণাদি জনগণের সামনে আনতে পারে, যদিও *তার কিছু অংশ *গোপন রাখা হবে চলতি তদন্ত ও নিরাপত্তা কারণে।




