বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ (উপ-সেনাপতি), সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান ও বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আব্দুল করিম খন্দকার বীর উত্তম আর নেই। তিনি শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (CMH) বার্ধক্যজনিত জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

21 Dec 2025 | Pic: Collected
এ কে খন্দকার ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন, এবং তাঁর আদি নিবাস পাবনার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা গ্রামে। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং পরে ১৯৬৯ সালে উইং কমান্ডার হিসেবে ঢাকায় দায়িত্ব নেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ এর পর তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে কৌশলগত পরিকল্পনা, সংগঠনের সমন্বয় এবং সফল অপারেশন বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বাধীনতার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট সক্রিয় ভূমিকা পালন করে দেশকে স্বাধীন করতে সহায়তা করে।
মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি বিমান বাহিনী গড়ার ক্ষেত্রে মূল অবদান রাখেন এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান (চিফ অব এয়ার স্টাফ) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের হত্যার প্রতিবাদে ১৯৭৫ সালের আগস্টে তিনি প্রধানপদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন— অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এছাড়াও তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য (পাবনা-২) ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশ সরকার তাঁর মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালে ‘বীর উত্তম’ খেতাব প্রদান করে, এবং ২০১১ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ দিয়েও সম্মান জানায়।
তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির উন্নয়নে তাঁর অবদান স্মরণ করেছেন। Chief Adviser অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, এ কে খন্দকার ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় সৈনিক, যিনি দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও নেতৃত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে দৃঢ় করেছে।
এতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর অবদান অনুকরণীয় বলে মন্তব্য করেন।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশাবের প্যারাড গ্রাউন্ডে মরহুমের জানাজা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করা হয়, যেখানে দেশাত্মবোধক করণীয়ের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ও বীরবন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।
এ কে খন্দকার শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সামরিক নেতা ছিলেন না, বরং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত স্থাপনায় একজন গুরুত্বপূর্ণ স্থপতি হিসেবেও পরিচিত। তাঁর জীবন ও অবদান নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।




