দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (Special Assistant) মো. খোদা বকশ চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গৃহীত হয়েছে এবং তা তৎক্ষণিকভাবে কার্যকর বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই পদত্যাগপত্রটি ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গেজেট নোটিফিকেশন মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, যা মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ স্বাক্ষরিত।
25 Dec 2025 | Pic: Collected
খোদা বকশ চৌধুরী, একজন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), গত ১০ নভেম্বর ২০২৪ সালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়ে নির্বাহী ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এই দায়িত্বপালনের ফলে তিনি মূলত দেশের আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সরাসরি নেতৃত্ব দিতেন।
খোদা বকশের পদত্যাগ বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বুধবার রাতে নিশ্চিত করে জানায়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তার পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে এবং তার পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে, সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি।
খোদা বকশের পদত্যাগের খবরটি আবর্তিত হয়েছে এমন একটি সময়েই যখন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনসাধারণ, রাজনৈতিক রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন থেকে তীব্র প্রশ্ন ও সমালোচনার সুর শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে গত ডিসেম্বর মাসে ইনকিলাব মঞ্চ সংগঠনের নির্বাহী সদস্য শরিফ ওসমান বিন হাদি কে গুলি করে হত্যা করা হলে, এর জন্য কর্তৃপক্ষের ব্যর্থ পরিচালনা নিয়ে বিক্ষোভ ও দাবি উঠে আসে যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীকে পদত্যাগ করা উচিত।
এর আগে বলেছিলেন বেশ কয়েকটি নাগরিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে সম্পূর্ণ নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। খোদা বকশের পদত্যাগ ঠিক এই প্রেক্ষাপটে এসেছে, যখন আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খোদা বকশ চৌধুরী বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিনের সেবা দিয়েছেন এবং তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বহু ক্ষেত্রে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় পুলিশের আধুনিকায়ন, অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেছেন। তার এই পেশাগত পরিচয় তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী দায়িত্বে নিয়োগ পেতে সহায়তা করেছিল।
তবে প্রশাসনিক সমালোচনার পাশাপাশি কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, এই পদত্যাগ চলমান রাজনৈতিক চাপ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক দায়িত্বের ভারের কারণে হতে পারে, কারণ জনমতের চাপ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিক নির্দেশনার অভাব বেশ কয়েকবার গৃহীত নীতিতে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। যদিও সরাসরি সরকার কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্য করেনি, তথাপি এই পদত্যাগ বড় ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।



