মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ক্রমেই উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে, কারণ **মার্কিন প্রশাসন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)–এর আচরণ ও সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ‘হতাশ’ অবস্থায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে গাজা রপ্তান ও যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের বিষয়ে নেতানিয়াহুর ধীর ও অনিশ্চিত পদক্ষেপ মনে করে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ উপদেষ্টা-সহ অনেকেই উদ্বিগ্ন।
27 Dec 2025 | Pic: Collected
এই পরিস্থিতির পটভূমিতে, নেতানিয়াহুর সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান শীর্ষ সমঝোতা কেন্দ্রীয় চরিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)–এর যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামনে একটি সম্ভাব্য আলোচনারও সংবাদ আছে, যেখানে নেতানিয়াহু ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
লেনদেনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ও আরেকটি দ্বিতীয় ধাপের শান্তি পরিকল্পনা চালু করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, যেটি এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি এবং এটি ‘ব্যাহত করার’ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গাজার প্রত্যাবর্তন ও নিরাপত্তা স্থাপনের লক্ষ্যে গত বছরের মধ্যেই একটি প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তি ও ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতি বাস্তবে প্রায়শই ভঙ্গ হয়েছে এবং তীব্র সংঘর্ষের ফলে মোটা অংকের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে করে পরিকল্পিত দ্বিতীয় ধাপটি অনিশ্চিত অবস্থায় পড়েছে।
দ্বিতীয় ধাপের মধ্যে গাজার শাসন কাঠামো পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন, নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ইত্যাদি পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু নেতানিয়াহু এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা ও ঢিলেঢালাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক শীর্ষ উপদেষ্টা — এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশেষ শীর্ষ দূত এবং হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ — মনে করছেন যে নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তির অগ্রগতি ধীর করছেন এবং যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
এক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেছেন, নেতানিয়াহুর অবস্থান এখন ট্রাম্প প্রশাসন থেকে এক কথায় সমর্থন হারানোর পথে, এমনকি ট্রাম্প ছাড়া কোনো উপদেষ্টা তাঁকে সমর্থন করতে প্রস্তুত নয় এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদে বলা হয়েছে যে নেতানিয়াহু সম্ভাব্যভাবে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন, যেখানে গাজা শান্তি পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়া, যুদ্ধবিরতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক যৌথ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। এতে মার্কিন প্রশাসন ইচ্ছুক যে নেতানিয়াহু গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর করতে মানিয়ে নিয়ে আসবে।
এরই পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো চাপ আছে যাতে ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে দ্রুত অগ্রগতি আনা হয়, কারণ চলমান সহিংসতা সাধারণ মানুষের ওপর ভয়াবহ মানবিক অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করেছে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ দ্রুত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বহুদিন ধরেই চাপ ও সমর্থনের এতিম শ্রম চলছে। যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, কাতার, মিশরসহ বিভিন্ন দেশ গাজা পরিকল্পনার গ্যারান্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং তারা এই প্রক্রিয়াকে চালিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ ও পরিকল্পনার ওপর কাজ করে যাচ্ছে।
তবে নেতানিয়াহুর ধীর ও অনিশ্চিত উদ্যোগ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের দ্রুত অগ্রগতির প্রত্যাশার সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি শান্তি পরিকল্পনায় বড় বাধা তৈরি করছে, এবং এতে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হয়ে যেতে পারে এমন শঙ্কা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রবল হচ্ছে।



