রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত ও Russian Direct Investment Fund (RDIF) প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টা ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সমাধানের উদ্যোগ “বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পাচ্ছে”, এবং এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিকভাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। তিনি একই সঙ্গে মন্তব্য করেন যে ট্রাম্প ও তাঁর দল বিশ্ব ন্যায়, স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য কাজ করছে, যদিও চ্যালেঞ্জ ও জটিল ইস্যুগুলো এখনও রয়ে গেছে।

29 Dec 2025 | Pic: Collected
কিরিল দিমিত্রিয়েভ আজ (২৯ ডিসেম্বর) এক ইংরেজি ভাষার পোস্টে লেখেন, “পুরো বিশ্ব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর দলের শান্তি প্রচেষ্টাকে মূল্য দিচ্ছে এবং প্রশংসা করছে,” — এমন মন্তব্য করেছেন তিনি এবং শান্তিলক্ষ্যে ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন শান্তির পরিকল্পনা এসেছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ২০২২ থেকে ২০২৫ অবধি দীর্ঘায়িত উত্তেজনার মধ্যে, যেখানে যুদ্ধের অবসান ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য বহু পক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে ফ্লোরিডায় বৈঠক ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর এই মন্তব্য আরও গুরুত্ব পেয়েছে। ট্রাম্পের মতে, তারা শান্তি পরিকল্পনার কিছু ২০-দফা পয়েন্টের ওপর ব্যাপক অগ্রগতি করেছে, যদিও নির্দিষ্ট কিছু ইস্যু নিয়ে মতভেদ এখনো রয়ে গেছে।
বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অন্যতম মূল উপাদান হচ্ছে:
• আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গ্যারান্টি — যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে।
• অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি — দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অবসান করে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি গড়ে তোলা।
• অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পুনর্গঠন উদ্যোগ — যুদ্ধপীড়িত অঞ্চলের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন।
• ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রশস্তকরণ।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে ইউক্রেন ও তার মিত্ররাও কিছু ইস্যুতে আরও গভীরতা চান, যেমন দীর্ঘ মেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং একটি জাতীয় রেফারেন্ডাম ভিত্তিক প্রস্তাব, যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।
ক্রেমলিনের বিশেষ দূত দিমিত্রিয়েভ আরও বলেন, ট্রাম্প-নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রচেষ্টা শুধু রাজনৈতিকই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমঝোতার মধ্য দিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে, যাতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো এবং বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় সংঘাতের সমাধান দেখা যায়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কূটনীতিক মনে করছেন, যদিও ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগে কিছু নির্দিষ্ট অসম্পূর্ণ বিষয় রয়ে গেছে, তা বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রচেষ্টার জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশ তৈরি করেছে। এই উদ্যোগকে অনেক দেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে, বিশেষ করে যুদ্ধ পরবর্তী অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতার জন্য আলোচনা প্রসঙ্গে।
বিশ্বজুড়ে প্রশংসা থাকলেও সমালোচনা ও শঙ্কাও রয়েছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন যে ট্রাম্প-শান্তি পরিকল্পনা অনেক ক্ষেত্রে রাশিয়া-বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং ইউক্রেনের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তাজনিত কিছু মৌলিক প্রশ্ন উদ্বেগ তৈরি করছে। এর ফলে বাস্তবে একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং সকল পক্ষের সমঝোতায় ভিত্তিক চুক্তি করা সহজ হবে কি-না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, শান্তি পরিকল্পনায় সামরিক মাস্তুল্য, নিরাপত্তা গ্যারান্টি ও আয়ত্তাধীন ভূখণ্ডের সিদ্ধান্ত সবই সূক্ষ্ম কূটনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন, এবং এটি দ্রুত বাস্তবায়িত হতে সময় লাগবে।




