উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন তাঁর দেশ পারমাণবিক অস্ত্র ও সামরিক শক্তি আরও ব্যাপকভাবে উন্নত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রসংবিধান ও সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে এ ঘোষণা উচ্চস্বরে প্রকাশ করা হয়েছে এবং এতে পারমাণবিক সক্ষমতা, সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ও সামরিক আধুনিকীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

29 Dec 2025 | Pic: Collected
কিম জং উন এই পদক্ষেপকে দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতির একটি সংকল্পমূলক অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সরঞ্জাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই উন্নয়নকে অপরিহার্য বলে দাবি করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন এটি একটি স্ট্র্যাটেজিক ও রাজনৈতিক সংকেত যাতে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক ও সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করার দিকেও জোর দিচ্ছে।
কিম জং উনের ঘোষণায় বলা হয়েছে যে দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত সামরিক শক্তি তৈরি করা‘ অপরিহার্য’ একটি স্ট্র্যাটেজি, বিশেষ করে তারা মনে করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক ব্যায়ের বৃদ্ধি উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তাকে অবিরাম চাপের মধ্যে ফেলছে। এর ফলে পিয়ংইয়ং নিজস্ব প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে দেশটি “আক্রমণাত্মক ও বহিরাগত হুমকি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে।”
এই ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার সামরিক নীতির নতুন পর্যায় বা রূপরেখা নির্দেশ করে — যেখানে একইসঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক মিসাইল, ও আধুনিক উপকরণ তৈরি ও পরীক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি তারা দীর্ঘ পাল্লার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ভাবন, নতুন সাবমেরিন প্রকল্প উন্নয়ন ও শক্তিশালী সামরিক উৎপাদন ব্যবস্থা দেখিয়েছে, যা কিমের বক্তব্যকে বাস্তব কর্মসূচি হিসেবে খোদ রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম থেকেও সামনে এনে দিয়েছে।
কিম জং উন উল্লেখ করেছেন যে তারা পারমাণবিক সক্ষমতাকে ‘দীর্ঘস্থায়ী ও সীমাহীন’ উন্নয়ন দেবে, এবং সার্বিক সামরিক শক্তির সঙ্গে মিলিয়ে এটিকে অপরিহার্য প্রতিরক্ষা উপাদান হিসাবে বিবেচনা করা হবে। এর পাশাপাশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণও তদারকি করেছেন, যা দেশের ‘স্ট্র্যাটেজিক প্রতিরক্ষা ও নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স’ হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে।
এই অগ্রগতি উত্তর কোরিয়ার নির্মাণাধীন নতুন পারমাণবিক শক্তি চালিত সাবমেরিন-এর মতো উচ্চ প্রযুক্তি সামরিক প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িত, যা সম্ভাব্যভাবে সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সক্ষমতা রাখতে পারে। সাবমেরিনটি প্রায় ৮,৭০০ টনের ওজনের, এবং এতে ব্যালিস্টিক বা কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বহন করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তার পারমাণবিক সক্ষমতাকে পানির নিচে থেকেও শক্তিশালী করে তুলতে পারবে।
এই ধরনের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতার বৃদ্ধি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়াকে একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক’ সামরিক খেলোয়াড় হিসেবে, যা কেবল নিজ দেশের নিরাপত্তাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর ফলে উত্তর কোরিয়া এখন আন্তর্জাতিক স্তরে একটি শক্তিশালী পারমাণবিক কর্কশ ভেক্টর হয়ে উঠছে, যার প্রভাব পূর্ব এশিয়া ও বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বাড়তে পারে।
উত্তর কোরিয়ার এই ঘোষণা বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও নিরাপত্তা ঘাটতি বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক ও সামরিক শক্তির উগ্র উন্নতি উত্তর এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়াতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার ইতিমধ্যেই পারমাণবিক উত্পাদন বন্ধ করার দিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে, এবং মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র একটি প্রতিরক্ষামূলক রসদ নয়, বরং তা রাজনৈতিক বার্তা ও কূটনৈতিক চাপের টুল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে — বিশেষ করে যখন বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ও নিষেধাজ্ঞার ইস্যু সক্রিয় আলোচনায় রয়েছে।




