দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনের পর দেশ প্রত্যাবর্তন করা বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সোমবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত দলীয় সমাবেশে নতুন করে দেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে তিনি সাধারণ জনগণকে শান্তি, ঐক্য, উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক সংস্কার নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

29 Dec 2025 | Pic: Collected
তারেক রহমান বলেন, “এবার আমাদের দায়িত্ব — দেশকে এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে সকলের অধিকার সুরক্ষিত থাকে, জনগণ শান্তিতে বসবাস করতে পারে ও আলোকিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এগিয়ে যায়।” তিনি সেই সঙ্গে বলেন, “দেশের ভবিষ্যত গঠনে প্রতিটি নাগরিককে তার ক্ষমতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে হবে।”
এ সময় তারেক রহমান বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই; এই নতুন বাংলাদেশে সবাইকে অংশ নিতে হবে — মুসলিম, হিন্দু, বুদ্ধিস্ট ও খ্রিস্টান সবার সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে কাজ করতে হবে।” তিনি দাবি করেন যে দেশে ন্যায্যতা, মানবাধিকার ও বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি, যাতে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন কাটাতে পারে।
যুক্তরাজ্য থেকে ১৭ বছরের নির্বাসনের পর ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারেক রহমান দেশে ফিরে আসেন, যেখানে তাকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক দ্বারা স্বাগত জানানো হয়। তার সেই আগমনটিকে দলীয় পুনর্জাগরণ ও শক্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এবার তার বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়, বরং এটি ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত, কারণ এই আহ্বানটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক সংস্কার, সমন্বিত উন্নয়ন এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেয়।
তারেক রহমান বিশেষ করে যুবসমাজ, শিক্ষালোক, ব্যবসায়ী শ্রেণী ও সাধারণ জনগণকে সমানভাবে নতুন বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিতে আহ্বান জানান এবং বলেন যে নিশ্চিতভাবে দেশকে উন্নয়নশীল, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করার প্রয়োজন রয়েছে।
তারেকের আহ্বান মূলত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে এসেছে, যেখানে তিনি গণতান্ত্রিক শক্তি ও সমর্থকদের সংগঠিত করার পক্ষে জোর দেন এবং বলেন, “অনেক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা থাকলেও তবে আমরা শান্তি ও ঐক্যের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাব।”
তার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা, যাতে তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়ন, শান্তি, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায্যতার জন্য অবদান রাখতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমানের এই কল যা তিনি “দেশকে নতুন করে গড়ে তোলা” বলছেন তা কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক রূপান্তর, সামাজিক ঐক্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গণসভার শক্তির উপর ভিত্তি করে একটি বর্বরী সমাজ নির্মাণের কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।
তবে কিছু সমালোচক বলেন, এ ধরনের আহ্বান বাস্তবে কীভাবে বাস্তবায়িত হবে — তা জনগণের কাছে পরিস্কার করে বোঝানো প্রয়োজন, বিশেষত যখন দেশে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিভাজন বিদ্যমান।
তারেকের এই আহ্বানকে একটি রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কর্মসূচি হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি বলেছেন, “আমরা নতুন করে দেশ গড়বো এবং তার জন্য সকলের সহযোগিতা চাই।”




