যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের হামোন্টন মিউনিসিপ্যাল এয়ারপোর্টের উপরে দুপুরের মধ্য সময় মাঝ আকাশে দুটি হেলিকপ্টার মুখোমুখি সংঘর্ষে বিধ্বস্ত হয়ে এক পাইলট নিহত ও অপর পাইলট গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় জনজীবন আতঙ্কিত ও উদ্ধার-তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

29 Dec 2025 | Pic: Collected
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় খুব সকালে প্রায় ১১টা ২৫ মিনিটে দুই হেলিকপ্টার আকাশে উড্ডয়নকালে হঠাৎ পরস্পরের দিকে ধেয়ে আসে এবং সংঘর্ষের পরে দ্রুত নিচে অবতরণ করে বিধ্বস্ত হয়। এই ভয়ানক দুর্ঘটনাটি হামোন্টনের বাসিন্দাদের চোখে ধরা পড়ে, যারা স্থানীয় ওশ্বর্জন প্রান্তে তখন প্রত্যক্ষ করেন কিভাবে একটি বিমান ঘূর্ণায়মানভাবে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং ধোঁয়া-আগুনে ঘিরে যায়।
নিহত পাইলটের পরিচয় এখনও পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি, তবে হতাহত ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানা গেছে যে দুটি হেলিকপ্টারই একমাত্র একজন করে পাইলট নিয়ে উড্ডয়ন করছিল, এবং তাদের মধ্যে অপর কোন যাত্রী ছিল না। সংঘর্ষের ফলে হতাহত পাইলটকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা বর্ণনা করেছেন যে একটি হেলিকপ্টার আগেই নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং অন্যটি উচ্চ-গতিতে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় নিচের দিকে নেমে আসে, তখনই দুইটি উভয়ই ভয়াবহভাবে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়েছে। জরুরি কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে আগুন নেভানোর পাশাপাশি আহতকে উদ্ধার করেছিল এবং আহত পাইলটকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন (FAA) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে, যাতে সংঘর্ষের কারণ ও কার্যকারণ নির্ধারণ করা যায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা উভয় হেলিকপ্টারের উড়োজাহাজের গতিপথ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবহাওয়া অবস্থার তথ্য এবং পাইলটদের উড়োজাহাজ প্রক্রিয়া বিশদভাবে যাচাই করবে।
এমতাবস্থায় স্থানীয় পুলিশ ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনীও বার্তা দিয়েছে যে, দুর্ঘটনার কারণ স্থির হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিমানচালনা কার্যক্রমে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে এবং জনসাধারণকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
হামোন্টন একটি ছোট শহর যা ফিলাডেলফিয়া ও আটলানটিক সিটির প্রায় ৩০-৩৫ মাইল দূরে অবস্থিত। এখানে সাধারণত ব্যক্তিগত ও ছোট-ধরনের উড্ডয়ন কার্যক্রম অনেক হয়, কিন্তু মাঝ আকাশে দু’টি হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষ এমন ভয়াবহ ঘটনা খুব কমই ঘটে — তাই এটি স্থানীয়দের জন্য খুবই শোকাবহ ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি।
এই দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত উভয়ই পাইলট ছিলেন যারা নিয়মিত উড্ডয়ন কার্যক্রমে নিয়োজিত। অনেক Aviation বিশ্লেষক মনে করছেন মাঝ আকাশে সংঘর্ষের অন্যতম বেশিরভাগ কারণ হলো ‘সী ও অ্যাভয়েড’ নীতি ব্যর্থতা, অর্থাৎ উড়োজাহাজের পাইলটরা একে অপরকে শনাক্ত করে যথাযথ পথে থাকেননি। তবে FAA ও NTSB-এর তদন্তের পরে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
বর্তমানে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, যারা সমস্ত তথ্য সংগ্রহের পর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে তদন্তের ফল প্রকাশ করবেন। এছাড়া স্থানীয় স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী সংস্থা নিহত পাইলটের পরিবারকে নিকট সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহত পাইলটের দ্রুত আরোগ্যের জন্য কামনা করেছে।




