বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টা ০০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন, তাঁর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP) একটি বিস্তারিত বিবৃতিতে জানিয়েছে।

30 Dec 2025 | Pic: Collected
খালেদা জিয়ার ধর্মীয় নাত এর পরেই (ফজর নামাজের পর) হৃদয়স্থ কারণে তিনি শহীদের মিছিলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাঁর দেহটি অভিযুক্ত চিকিৎসা শেষে আজই তাঁর পরিবার ও দলের সদস্যদের উপস্থিতিতে আহবান অনুযায়ী শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, এবং সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যা পর ১৯৮১ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং দ্রুত বিএনপি’র নেতৃত্বে উঠে যান। তিনি ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন এবং পরে দুটি আলাদা সময়ে এই পদে দায়িত্ব পালন করেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থায়ী স্থান করে নেন।
খালেদার রাজনীতিতে সময়কাল ছিল চরম উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পূর্ণ। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মজীবন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও নেতৃত্বের ভূমিকায় পরিবর্তন, এবং রাজনৈতিক বিরোধের এক কঠিন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
তিনি ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা থেকে প্রিমিয়ার-নেতৃত্বাধীন সংসদীয় ব্যবস্থায় রূপান্তর আনার মতো রাজনৈতিক সংস্কার কার্যকর করেন এবং শুরুর সময়ের বিদেশি বিনিয়োগ ও সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নী নীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন। যদিও তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে মিলিট্যান্সি হুমকি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা এবং কোনকিছু বিতর্কিত ঘটনা রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তবু তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছিলেন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও “ব্যাটল অফ দ্য বেগমস” নামে পরিচিত এই যুগ ধরে তাঁর সম্পর্ক দেশের আরেক প্রধান নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিল দীর্ঘ ও জটিল — যা বাংলাদেশি রাজনীতিকে প্রতিযোগিতা ও পরিবর্তনের ধারা থেকে অনড়ভাবে প্রভাবিত করেছে।
তিনি অনেক বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন, যেখানে তিনি হৃদরোগ, লিভারের সেরোসিস, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ বহু শারীরিক সমস্যা নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ২৩ নভেম্বর ২০২৫ থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসার পর কেটেও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি এবং আজ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে বিশ্বস্ত চিকিৎসক গুণ্ডনের তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
তার মৃত্যুর খবরে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা শোক জানিয়েছেন। সাময়িক সরকার ও বিভিন্ন দলীয় নেতৃত্ব “দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল” বলে মন্তব্য করেছেন, এবং দেশব্যাপী দূঃখ ও শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে।
তাঁর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে, এবং বাংলাদেশ জুড়ে বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল, তীর্থযাত্রা ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হতে শুরু করেছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যু রাজনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে যখন দেশ আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সাধারণ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে চলেছে। তাঁর ছেলে ও বিএনপির উপদেষ্টা তারেক রহমান ইতোমধ্যেই দেশে ফিরে গেছেন এবং দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, বিশেষত রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও দলীয় কর্মসূচির দৃঢ়করণে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তাঁর চলে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনীতির একটি যুগের সমাপ্তি এবং নতুন নেতৃত্ব, নতুন পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ধারা নির্ধারণে একটি বড় রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে জনপ্রিয়তার পরিবর্তন, ভোট-ব্যবস্থা ও দলের কাঠামো আবার নতুনভাবে পুনর্গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।




