আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বা AI। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি বিশ্লেষক, গবেষক ও বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক করে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি উন্নতির সঙ্গে সরাসরি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তার জটিলতা ও সম্ভাব্য ক্ষতিকারক প্রভাব মানব সমাজের জন্য গভীর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং নৈতিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে এই উদ্বেগ আরও তীব্র হবে।

30 Dec 2025 | Pic: Collected
মাইক্রোসফটের এআই বিভাগের প্রধান মুস্তাফা সুলেইমান সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, আজকের উন্নত এআই যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপত্তামূলক বেষ্টনী দিয়ে বাঁচানো না হয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, এবং এটি “মানুষের জন্য একটি বড় ঝুঁকি” হিসেবে আবির্ভুত হতে পারে।
বিশ্ব প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যে এখনকার উন্নত এআই ব্যবস্থা শুধু নির্দিষ্ট কাজ করে না, বরং নিজস্ব উপায় ও পদ্ধতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হচ্ছে, যা অনেক সময় মানুষের নির্দিষ্ট নির্দেশের বাইরে যায়। এমনকি কিছু গবেষক বিবেচনা করছেন যে ভবিষ্যতে সুপার ইন্টেলিজেন্ট AI — এমন AI যা মানুষের বুদ্ধিমত্তা অতিক্রম করতে পারে — মানবজাতির আস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এমন ধারণা আছে, যদি AI নিজের লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতি খুঁজে নেয় এবং তা মানুষের মূল্য ও লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে না পারে, তাহলে এই AI “নিজস্বভাবে” কাজ করতে শুরু করতে পারে, যা মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে ফেলবে। এই ধরনের পরিস্থিতি হলে AI “মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে” চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে — এমনই সতর্ক করেছেন অনেক গবেষক।
গবেষণাগুলোর মধ্যেও একটি সাধারণ থিম হল “প্রতিটি AI সিস্টেমের ঐচ্ছিকতা ও উদ্দেশ্য যদি মানুষের নৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোতে না বাঁধা থাকে, তাহলে এটি অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে”। এমন একটা AI যা নিজস্ব উদ্দীপনা বা অ্যালগোরিদমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তা মানুষের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে যেতে পারে — যেমনটি কিছু নিরাপত্তা গবেষণা উল্লেখ করছে।
বিশ্বসেরা বিভিন্ন আইটি ও প্রযুক্তি গবেষকরা ইতোমধ্যেই ভবিষ্যত AI-সম্পর্কিত উন্মুক্ত চিঠি ও নীতিমালা জারি করেছেন, যেখানে তারা বলেছেন যে এআইয়ের সম্ভাব্য “এক্সিস্টেনশিয়াল রিস্ক” বা অস্তিত্বগত ঝুঁকি হতে পারে, যদি এই প্রযুক্তি মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায় বা ভুলভাবে ব্যবহৃত হয়।
AI-এর এই ভয়াবহ সম্ভাব্যতা থেকে রক্ষা পেতে বিশ্বব্যাপী অনেকেই বলছেন, কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা, গাড়িত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও AI-র উদ্দেশ্য ও মূল্যমান সংক্রান্ত স্পষ্ট গাইডলাইন স্থাপন এখন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত নিরাপত্তামূলক বেষ্টনী, রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ, তৃতীয় পক্ষের যাচাই এবং AI-র ব্যবহার সীমাবদ্ধ করার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন নেট-নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
যদিও ঝুঁকির কথা বলা হচ্ছে, AI প্রযুক্তির ইতিবাচক সম্ভাবনাও অস্বীকার করার মতো নয়: যেমন
- চিকিৎসা-সেবা উন্নয়ন ও রোগ নির্ণয়ে সহায়তা
- শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষজ্ঞ সহায়তা
- সাংবাদিকতা, বিজ্ঞান, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের উন্নত ইনসাইট
এ সব ক্ষেত্রে AI-এর অবদান ইতিমধ্যেই লক্ষণীয়। তবে এই সম্ভাবনা যদি নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর সঙ্গে সমানভাবে উন্নত না হয়, তাহলে তা অপরিকল্পিত ও বিপজ্জনক কৌশলে ব্যবহৃত হতে পারে।




