বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া’র মৃত্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর নেতৃত্ব ও দেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় ঢাকা-এর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশ রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত নেতা। তাঁর জীবদ্দশায় তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে দেশ ও আন্তর্জাতিক জীবনে তাঁর ভাবমূর্তি বিশাল প্রভাব ফেলেছে।

30 Dec 2025 | Pic: Collected
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত শোকবার্তায় বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া তাঁর দেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই শোকবার্তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়ার অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শোকবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাঁর দেশের গণতন্ত্র ও রাজনীতির ধারাকে শক্তিশালী করতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন।” মার্কিন পক্ষ শোকাহত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন, একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক নেতারা ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোও শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অবদানকে স্মরণীয় হিসেবে আসন্ন ঘোষণা করেছেন।
অন্যান্য দেশগুলোর শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে:
- জাতিসংঘ (UN) তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের জন্য শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর পরিবার ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
- ফ্রান্স তাঁর জাতির সামনে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়ে শোকবার্তা দিয়েছে।
- ভারত ও পাকিস্তানের নেতারা eveneens খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর অবদানকে স্মরণ করেছেন।
এমন আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বোঝায় যে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব শুধু বাংলাদেশের মধ্যে নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও একটি স্থায়ী স্মৃতি রেখে যাবে।
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং তাঁর ক্যারিয়ার জুড়ে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনীতি ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জগতে তিনি একটি শক্তিশালী চরিত্র ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সময়কালে দেশ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, যা বহুবার আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
কিছু সমালোচক তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করলেও, আন্তর্জাতিক নেতারা শোকবার্তায় যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা তার সামগ্রিক রাজনৈতিক ভূমিকার একটি সম্মানজকা পর্যালোচনা হিসেবে গণ্য করা হয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে ও বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিবেদন হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর অন্তরের বয়সে মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিক নেতাদের নজর কাড়ায় এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের শোকবার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শোক বার্তা প্রশংসা পাচ্ছে তা দেখায় যে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের উভয় প্রতিক্রিয়া — দেশান্তর ও সহযোগিতামূলক — বিশ্ব রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে খালেদা জিয়ার অবস্থান কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।




